জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও পলাতক প্রশান্ত বর্মন (BDO Prashanta barman)। নিউটাউনে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনে নাম জড়ালেও পুলিশ নাকি তাঁকে এখনও খুঁজে পায়নি। অথচ এই আমলা পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে ঘুরে বেরাচ্ছে। বৃহস্পতিবার এই মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta high court) বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর তোপের মুখে পড়ে সিআইডি (CID)। নিখোঁজ বিডিও কীভাবে সরকারি কোষাগার থেকে মাসের পর মাস বেতন পেতে পারে?
আরও পড়ুন: জামশেদপুর খুনে কলকাতা যোগ! গ্রেফতার পুলিশ সার্জেন্ট ও সিভিক ভলান্টিয়ার
আদালতের বক্তব্য, একজন সরকারি আধিকারিককে পুলিশ খুঁজে পাচ্ছে না বলে বলা হচ্ছে। অথচ সেই ব্যক্তি কী ভাবে প্রতি মাসে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন পাচ্ছেন? সেটি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এই পরিস্থিতি নিয়ে সিআইডিকে রীতিমত তুলোধনা করেন বিচারপতি। পাশাপাশি রাজ্যের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
শুনানি চলাকালীন প্রশান্তের আইনজীবী পাল্টা হলফনামা দেওয়ার সুযোগ চাইলে বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, "সুপ্রিম কোর্ট আপনার মক্কেলের বেল খারিজ করে দিয়েছিল। আপনি তো সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও লঙ্ঘন করেছেন! আপনি তো খুব প্রভাবশালী ব্যক্তি।"
অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেলের উদ্দেশে বিচারপতি চক্রবর্তী স্পষ্ট জানান, "অভিযুক্তকে খুঁজুন, তিনি তো আর দেশ থেকে গায়েব হয়ে যাননি। একজন সরকারি অফিসার বেপাত্তা, অথচ তাকে সরকারি টাকা দেওয়া হচ্ছে?" রাজ্যকে পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার নির্দেশ দিয়ে আদালত জানিয়েছে, আগামী তিন সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
প্রশান্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের সূত্রপাত গত বছরের অক্টোবরের একটি খুনের ঘটনা থেকে। বিধাননগরের দত্তাবাদ এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ করে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে নিউ টাউনের যাত্রাগাছি এলাকার একটি খালধার থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে প্রশান্তের নাম অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে সামনে আসে। এই মামলায় প্রথমে বারাসত ও বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন প্রশান্ত। তারই বিরোধিতা করে পুলিশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। আদালত তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু প্রশান্ত তা করেনি। জুন থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের তদন্ত সিআইডির হাতে যায়। কিন্তু তারপরেও প্রশান্ত অধরাই থেকে যায়।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর মেদিনীপুরে নিয়ে যাওয়া হল সুমিতকে, দুপুরে আদালত হাজিরা
গতকাল সিআইডি-র তরফে জানানো হয়েছে, প্রশান্ত বর্মণের (BDO Prashanta barman) বিরুদ্ধে যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল, তাতে বেশ কিছু গাফিলতি থেকে গিয়েছে। এরপর বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এই মামলায় রাজ্যকে তিন সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
















