দুর্গাপুজোয় (Durga Puja) মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে তাঁর মন্তব্য ঘিরে দেখা দিয়েছে প্রবল বিতর্ক। রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন স্তরে উঠেছে প্রশ্ন। সেই আবহেই এবার নিজের বক্তব্যের ‘ব্যাখ্যা’ দিলেন ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী (Dhirendra Krishna Shastri) ওরফে বাগেশ্বর বাবা (Bageshwar Baba)। ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের দাবি, তাঁর কথার আসল অর্থকে বিকৃত করে তুলে ধরা হয়েছে। স্কটল্যান্ডের (Scotland) গ্লাসগো (Glasgow) থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাগেশ্বর বাবা স্পষ্ট করে জানান, কোনও মানুষের ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই। কারও বাড়িতে মাছ বা মাংস বন্ধ করার কথা তিনি বলেননি। বরং তাঁর বক্তব্যের লক্ষ্য ছিল দুর্গাপুজোর মণ্ডপকে পবিত্র রাখা।
আরও পড়ুন: রাস্তার নাম বদলে নয়া নজরদারি, কার্তিক মহারাজের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের কমিটি
বাগেশ্বর বাবার কথায়, “পুজোয় আমিষ খেতে বারণ করার আমি কে?” কে কী খাবেন, তা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় বলেই মনে করেন তিনি। তবে পুজোর জায়গার আশপাশে মাছ-মাংস না খাওয়ার জন্য তিনি আবেদন করেছিলেন বলে দাবি করলেন ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী।
বাংলায় এসে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের সূত্রপাত হয়েছিল দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ঘিরে। নবরাত্রির সময়ে পুজোর পরিবেশে আমিষ খাবার তৈরি বা খাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছিলেন তিনি। এমনকী, মাছ-মাংস খাওয়া মানুষদের ‘পাখণ্ডী’ বলে অভিহিত করেছিলেন তিনি। সেই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।
আরও পড়ুন: অভিযোগ নিষ্পত্তিতে গতি আনতে উদ্যোগ, ১৬ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য কমিশনের প্রথম বৈঠক
সমালোচনার মূল কারণই ছিল তাঁর ব্যবহৃত ‘পাখণ্ডী’ শব্দটি। কারণ, বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে মাছের সঙ্গে বাঙালির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ফলে বাইরে থেকে এসে বাংলার খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কোনও ধর্মীয় নির্দেশ বা মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।
এই বিতর্কের মধ্যেই বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যের থেকে দূরত্ব তৈরি করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি মনে করিয়ে দেন, বাংলার ধর্মীয় সংস্কৃতি এবং খাদ্যাভ্যাসের নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে। সেই জায়গায় অন্য কোনও অঞ্চলের ধর্মীয় ভাবনা বাংলার মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। বিজেপির আরও কয়েকজন নেতার বক্তব্যেও বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত না হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছিল।
এবার অবশ্য নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাগেশ্বর বাবা জোর দিলেন ব্যক্তিগত স্বাধীনতার উপর। তাঁর বক্তব্য, বাড়িতে একজন মানুষ কী খাবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁর নিজের। তাঁর আপত্তি মূলত পুজোর মণ্ডপে আমিষ খাবার খাওয়া এবং বলিপ্রথা নিয়ে।
বাগেশ্বর বাবা জানান, বলিপ্রথাও তাঁর পছন্দ নয়। তাঁর যুক্তি, “সব জীবের বাঁচার অধিকার আছে।” শুধু তাই নয়, নিজেকে বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গেও যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন তিনি। স্বামী বিবেকানন্দ এবং রামকৃষ্ণদেবের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর দাবি, তিনি তাঁদের পরম্পরার অনুসারী। সেই বিশ্বাস থেকেই দুর্গাপুজোর মণ্ডপে মাছ-মাংস না খাওয়ার আবেদন করেছিলেন।
তবে তাঁর এই ব্যাখ্যা বিতর্ক পুরোপুরি থামাতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার। কারণ, প্রথম মন্তব্যে ‘পাখণ্ডী’ শব্দের ব্যবহার নিয়েই রাজ্যজুড়ে যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল, নতুন বক্তব্যে তারই ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বাগেশ্বর বাবা। ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসের স্বাধীনতা মেনে নিয়েও পুজোর পরিবেশে আমিষ খাবার নিয়ে তাঁর আপত্তির জায়গাটি অবশ্য তিনি স্পষ্টই রেখেছেন।
















