টিব্যাকের নবনির্মিত ওয়েবসাইটের উদ্বোধনী মঞ্চে শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে স্কুলের উন্নয়নের পক্ষে কথা বললেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Trinamool MLA Kunal Ghosh) ও বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা (BJP MLA Vijay Ojha)। প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে টাকির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে কুণাল স্পষ্ট বলেন, “স্কুলের ক্ষেত্রে আমরা কোনও রাজনৈতিক দল কোনওদিন দেখিনি এবং ভবিষ্যতেও দেখব না।” অন্যদিকে বিজয় ওঝার বার্তা, টাকি বয়েজ (Taki Boys) যে ভাবে সমাজের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে চলেছে, প্রাক্তনীদের সহযোগিতা পেলে সেই পরিসর আরও বিস্তৃত হবে।
টাকির প্রাক্তন ছাত্র কুণালের দাবি, একসময় হিন্দু, হেয়ার ও টাকির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও বর্তমানে বাকি স্কুলগুলোকে পিছনে ফেলে টাকি নিজের জায়গা করে নিয়েছে। স্কুলের এই পরিবেশ ধরে রাখার পিছনে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রাক্তনীদের সংগঠন টিব্যাকের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে কুণাল বলেন, প্রতি বছর দ্বিতীয় রবিবার দেশ-বিদেশে থাকা প্রাক্তনীরা মিলিত হন এবং নিজেদের মতো করে স্কুলের পাশে দাঁড়ান। বাঙালি পরিবারের বহু পড়ুয়ার ইংরেজিতে কথা বলার জড়তা কাটাতে প্রাক্তনীদের উদ্যোগে স্পোকেন ইংলিশ ক্লাস চালু এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সহায়তার কথাও জানান তিনি।
স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নে নিজের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন কুণাল। সাংসদ থাকাকালীন নতুন ভবন তৈরির জন্য ১ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা জানান তিনি। এমনকি সবার উদ্যোগে কম্পিউটার ক্লাসরুম তৈরি থেকে শুরু করে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা পড়ুয়াদের খাতা-পেন্সিল-সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে পাশে থাকার উদ্যোগের কথাও বলেন। টাকিতে ভর্তির বিপুল চাহিদার কথা উল্লেখ করে কুণাল ভবিষ্যতে টাকি কলেজ (Taki College) তৈরির পরিকল্পনার কথাও বলেন।
শিক্ষার পরিসরকে আরও বড় করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝাও। তাঁর বক্তব্য, উচ্চশিক্ষার পর যাতে নতুন প্রজন্মকে পড়াশোনার জন্য বাধ্য হয়ে অন্য রাজ্য বা বিদেশে যেতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা দরকার। তাঁর কথায়, টাকি যে ‘ছায়া’ সমাজকে দিয়ে চলেছে, প্রাক্তনীদের সহযোগিতা সেই পরিসরকে আরও বড় করে তুলতে পারে। দুই ভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিধায়কের বক্তব্যে এ দিন তাই সামনে এসেছে একই বার্তা— শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক বিভাজনের বদলে স্কুলের উন্নয়নই হোক অগ্রাধিকার।
















