রাজ্যে উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন প্রার্থীরা। রবিবার সকালে সাফ জানিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। উপনির্বাচন হবে নন্দীগ্রাম (Nandigram) এবং রেজিনগরে (Rejinagar)। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় কল্যাণ (Kalyan Banerjee) জানিয়েছেন, "নির্বাচন কমিশন কোনও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করেনি। কমিশন আমাদের এই মাসের (সেপ্টেম্বর) ১৬ ও ১৭ তারিখে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তাই আমাদের প্রার্থী দলের প্রতীক নিয়ে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।"

আরও পড়ুন: নয়া সরকারের প্রতি আস্থায় বাংলার কলেজে ফিরছেন পড়ুয়ারা: মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ সমিতের, পরামর্শ দিলেন শুভেন্দুও

নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর- এই দুই কেন্দ্রে বিধানসভা উপনির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার। মনোনয়ন প্রত্যাহার করা যাবে সর্বশেষ ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। কিন্তু সেখানে 'অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস' অর্থাৎ জোড়াফুল প্রতীকে লড়বেন কারা? এ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। 

মমতাপন্থী তৃণমূল এবং ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের মধ্যে জোড়াফুলের 'প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব' নিয়ে এই বিতর্কের অবসান শনিবার হয়নি। জল্পনা ছিল, কমিশন কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করতে পারে। আপাতত ফ্রিজ করা হতে পারে জোড়াফুল প্রতীক। সে ক্ষেত্রে তৃণমূলের দুই শিবিরকে অন্য প্রতীকে ভোটে লড়তে হতো। কিন্তু রবিবার দুপুর পর্যন্ত কমিশন কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। 

আরও পড়ুন: মৃত্যুর পরও শেষ নয়! ভবিষ্যতে ফিরে আসার আশায় মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রিতে দেহ সংরক্ষণ

১২ সেপ্টেম্বর দুই শিবিরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকের পরই মমতা পন্থী তৃণমূল নতুন করে তৎপরতা শুরু করে। নতুন করে কালীঘাট শিবিরের তরফে ডেরেক ও'ব্রায়েন কমিশনকে চিঠি দেন। দাবি করেন, ঋতব্রতরা নিজেদের দাবির সপক্ষে ঠিক কী কী নথিপত্র জমা দিয়েছে, তা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষকে কমিশনের তরফে স্পষ্ট করা হয়নি। এছাড়া কমিশনের নিজস্ব ওয়েবসাইটে তৃণমূলের মূল সংবিধানের সর্বশেষ তথ্যও জানা যায়নি। ডেরেকের দাবি, দলের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী আগামী ২০২৭ সালে তৃণমূলের চেয়ারপার্সন নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত দাপ্তরিক ও সরকারিভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তৃণমূলের একচ্ছত্র চেয়ারপার্সন। তাছাড়া তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ ঋতব্রতরা তুলছেন, সেটাও বৈধ নয়। ডেরেকের ওই চিঠির পরই ফের মমতা শিবিরকে তলব করল কমিশন।