উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে পুরনো সৈনিকের উপরেই আস্থা বজায় রাখল বামফ্রন্ট। ছাব্বিশের ভোটে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লড়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করা অভিজ্ঞ সিপিআই নেতা শান্তিগোপাল গিরিকেই ফের প্রার্থী করা হল। তবে নন্দীগ্রামে ঐক্যের ছবি ধরা পড়লেও, রেজিনগর আসনটিকে কেন্দ্র করে বাম শিবিরের অন্দরের ফাটল এক লহমায় প্রকাশ্যে চলে এল। সিপিএমের ‘একতরফা’ প্রার্থী ঘোষণার বিরুদ্ধে একপ্রকার বিদ্রোহ ঘোষণা করে ওই আসনে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রধান শরিক আরএসপি।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। শনিবার আলিমুদ্দিন থেকে দুই কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে বামফ্রন্ট নেতৃত্ব। নন্দীগ্রামে প্রত্যাশিত ভাবেই শান্তিগোপাল গিরিকে সামনে আনা হলেও, রেজিনগরে সিপিএমের সইদ আসাদ আলির নাম ঘোষণা হতেই তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয় আরএসপির অন্দরে। মুর্শিদাবাদের এই আসনটি বরাবরই তাদের বরাদ্দের মধ্যে পড়ে বলে দাবি করে আসছিল আরএসপি। শুক্রবার ফ্রন্টের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও এই নিয়ে রফাসূত্র মেলেনি। কিন্তু তার পরেও শনিবার সিপিএম কার্যত একক সিদ্ধান্তে নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মনোজ ভট্টাচার্যরা।
আরএসপি নেতৃত্বের সরাসরি অভিযোগ, শরিকি সংহতি ভেঙে সিপিএম ‘দাদাগিরি’ কায়েম করার চেষ্টা করছে। এর প্রতিবাদে রেজিনগরে পৃথক ভাবে নিজেদের দলীয় প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি ক্ষতে প্রলেপ দিতে রবিবার ফ্রন্টের সব শরিক দলকে জরুরি বৈঠকে ডেকেছে বামফ্রন্ট নেতৃত্ব। যদিও তাতে চিড়ে ভেজার লক্ষণ নেই। আরএসপি নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রবিবারের সেই বৈঠকে তারা যোগ দেবে না। প্রয়োজনে রেজিনগরে সিপিএমের বিরুদ্ধেই সরাসরি লড়াইয়ে নামবে তারা।
উল্লেখ্য, এই উপনির্বাচনে কংগ্রেস ইতিমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা করে ময়দানে নেমে পড়েছে। অন্য দিকে তৃণমূল এবং বিজেপি এখনও তাদের তাস প্রকাশ্যে আনেনি। শাসক ও প্রধান বিরোধী দলের প্রার্থী ঘোষণার আগেই বামেদের এই তীব্র গৃহযুদ্ধ বিরোধী শিবিরের কৌশলকে বড়সড় ধাক্কা দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
















