প্রাথমিক শিক্ষকদের ডিপ্লোমা ইন এলিমেন্টারি এডুকেশন (ডিএলএড) পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে গুরুতর অভিযোগ উঠল হাওড়ার সাঁকরাইলে (Sankrail, Howrah)। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, টোকাটুকি রুখতে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার আগে মহিলা পরীক্ষার্থীদের শরীর ও পোশাক তল্লাশির নামে চরম হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকী অন্তর্বাস খুলিয়ে তল্লাশি এবং গোপনাঙ্গে হাত দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিক পরীক্ষার্থী শুক্রবার রাতে সাঁকরাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে সাঁকরাইল গার্লস হাইস্কুলের পরীক্ষাকেন্দ্র (Sankrail Girls' High School Examination Centre)। পরীক্ষার্থীদের দাবি, কয়েক দিন ধরেই পরীক্ষা শুরুর আগে তাঁদের তল্লাশি করা হচ্ছিল। সেই তল্লাশি নিয়ে আপত্তি জানানো হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। মহিলা পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, বেসরকারি সংস্থার মহিলা বাউন্সারদের (Bouncer) দিয়ে এমনভাবে তল্লাশি চালানো হয়েছে, যা তাঁদের কাছে অত্যন্ত অপমানজনক বলে মনে হয়েছে। এক পরীক্ষার্থীর আরও অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় অন্তর্বাস খুলিয়ে সেই পরিস্থিতির ভিডিও করা হয়।

শুধু মহিলা পরীক্ষার্থীরাই নন, একই ধরনের অভিযোগ করেছেন কয়েক জন পুরুষ পরীক্ষার্থীও। তাঁদের দাবি, পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার আগে জামা-প্যান্ট খুলিয়ে তল্লাশি করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, নকল রুখতে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থার নামে ঠিক কী ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং সেই নির্দেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়েছিল কি না।

অভিযোগ সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। হাওড়া সিটি পুলিশের (Howrah City Police) পদস্থ আধিকারিকরা পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষার্থী ও স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের (District Primary Education Office) তরফেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান তথা জেলা প্রাথমিক স্কুল পরিদর্শক দিলীপ কুমার সাহা (District Primary School Inspector Dilip Kumar Saha)। ৮ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা ডিএলএড পরীক্ষার শেষপর্বে এই অভিযোগ ঘিরে এখন তদন্তের দিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।