কৌশিকী অমাবস্যাকে ( Kaushiki Amavasya) কেন্দ্র করে প্রতি বছরই তারাপীঠে ( Tarapith) ভক্ত ও পর্যটকদের ঢল নামে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিপুল জনসমাগমের পাশাপাশি উৎসবের চার দিনে তারাপীঠে মদ বিক্রির ( Liquor Sale) পরিমাণও পৌঁছেছে প্রায় ৪ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকায়। তবে গত বছরের তুলনায় কমেছে বিদেশি মদের ( Liquor) বিক্রি। আবগারি দফতরের আধিকারিকদের তরফে জানান হয়েছে, উৎসবের আগে মদের দোকান বন্ধ ( Shop Close) থাকা নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তিই এর অন্যতম কারণ।
আরও পড়ুন: সুরাপ্রেমীদের ভিড় জমবে হাসপাতালে! ১৩ দিন মদ-বন্ধে পুনে প্রশাসনকে তুলোধোনা বম্বে হাইকোর্টের
আবগারি দফতর সূত্রে খবর, ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ এই চার দিনে তারাপীঠে মোট ৪ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ৮ সেপ্টেম্বর বিক্রি হয়েছিল প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মদ। এরপর কৌশিকী অমাবস্যার মূল তিথি ঘিরে ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর দু’দিনে বিক্রির অঙ্ক পৌঁছয় প্রায় ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকায়। ১১ সেপ্টেম্বর একদিনেই বিক্রি হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকার মদ।
চার দিনের বিক্রির হিসাব বলছে, কৌশিকী অমাবস্যায় মোট ২৩,৭৭৩ লিটার বিয়ার, ৮,৬০০ লিটারের বেশি দেশি মদ এবং ২৯,৬২২ লিটার বিদেশি মদ বিক্রি হয়েছে। আবগারি দফতরের দাবি, অন্যান্য সময়ের তুলনায় এ বার দেশি মদ এবং বিয়ারের বিক্রি তুলনামূলক ভাবে বেশি ছিল।
তবে নজর কেড়েছে বিদেশি মদের বিক্রির পরিসংখ্যান। ২০২৫ সালের তুলনায় এ বার প্রায় ৪,২০০ লিটার বিদেশি মদ কম বিক্রি হয়েছে। এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। কেন বিদেশি মদের বিক্রি কমল? তা নিয়ে আবগারি দফতরের আধিকারিকদের একাংশের মতে, উৎসবের ( Festival) আগে তৈরি হওয়া একটি বিভ্রান্তির প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বিক্রিতে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি বৈঠকে কৌশিকী অমাবস্যার দু’দিন আগে থেকে মদের দোকান বন্ধ রাখার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। আর তাতেই দোকান বন্ধ হয়ে যেতে পারে এই আশঙ্কায় স্থানীয় মদ ব্যবসায়ীদের একাংশ অতিরিক্ত পণ্য মজুত করতে চাননি। একইসঙ্গে, দোকান বন্ধ থাকার সম্ভাবনার কথা ভেবে অনেক পর্যটক ও পুণ্যার্থী তারাপীঠে আসার আগেই অন্য জায়গা থেকে মদ কিনে নিয়ে এসেছিলেন বলে মনে করছেন আবগারি দফতরের আধিকারিকরা। ফলে একদিকে উৎসব ঘিরে বিপুল ভিড় এবং মোট বিক্রি কয়েক কোটি টাকা ছাড়ালেও, অন্যদিকে স্থানীয় দোকানে বিশেষ করে বিদেশি মদের বিক্রিতে তার প্রভাব পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
















