ছিল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তৃণমূলের দুই শিবিরের বৈঠক। কিন্তু দিনের শেষে একে অপরকে তীব্র আক্রমণ শানাল দুই পক্ষ। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Ritabrato Benarjee) সরাসরি বিজেপির (BJP) দালাল বলে নিশানা করেন তৃণমূল (TMC) সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Benarjee)। এর আগে অবশ্য কল্যাণ-সহ তাঁর পরিবারকে মামলা লড়ার নাম করে টাকা নেওয়ায় অভিযুক্ত করেন ঋতব্রত। 

শনিবার, নির্বাচন কমিশনে (Election Commission) প্রথমে যান ঋত-পন্থীরা। ঘণ্টাখানেক বৈঠকের পরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল সভানেত্রী এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে একযোগে আক্রমণ করেন ঋতব্রত। বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস একটি পরিবারভিত্তিক পার্টি নয়, কারুর বাপের সম্পত্তি নয়, ব্যক্তিগত মালিকানা নেই এই পার্টির। এটি তৃণমূল স্তরের কর্মীদের পার্টি। ‘মমতা যা বলবেন তাই সই’- এসব চলবে না।“

পাল্টা ঋত-শিবিরকে ধুয়ে দেন কল্যাণ। তাঁর কথায়, “ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলকে সম্পত্তি মনে করে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বেচে দিয়েছেন। বিজেপির দালাল হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ও তো ধর্ষণে অভিযুক্ত, ওর কোনও কথার গুরুত্ব নেই।“ এর পরে কল্যাণের সংযোজন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল তৈরি করেছিলেন। নিজে জোড়াফুল এঁকেছিলেন, তা থেকেই দলের প্রতীক তৈরি হয়। যাঁরা এখন বিদ্রোহ করেছেন, কয়েক মাস আগে মমতার আঁকা ওই প্রতীকেই নির্বাচনেই জয়ী হন তাঁরা। তাই তাঁদের গুরুত্ব না দেওয়াই ভাল।“

মামলা লড়ার ফি নিয়ে কল্যাণ বন্দ্য়োপাধ্যায় ও তাঁর পরিবারের নিশানা করেন ঋতব্রত। বলেন, "আমরা যেটা নিয়ে কনসার্ন, আমরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখব ঠিক করেছি। ২০১১ থেকে ২০২৬ অবধি আইনজীবী ব্যানার্জি, তাঁর পুত্র, তাঁর কন্যা, তাঁর জামাতারা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের থেকে কত টাকার মামলা করেছেন সেটা আমরা জানতে চাই। ফি কত ছিল? ফিরে গিয়েই চিঠি দেব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে।" 

পাল্টা ঋতব্রতকে নিশানা করে কল্যাণের বক্তব্য, “লিখুন না। আমার পরিবার, আমায় নিয়ে যা ইচ্ছে লিখুক। আমি যা টাকা পেয়েছি, সেটা পরিশ্রম করে পেয়েছি। আমি তো বিনা পরিশ্রমে টাকা পাইনি। আমার যা আছে, সব অন রেকর্ড। আমি মামলা লড়েছি, এটা তো অস্বীকার করতে পারবে না। ফিজ তো নেবই। যেখানে যেখানে ফিজ নেওয়ার, নেবই। সরকার থেকে দিয়েছে, সেটা জমাও পড়েছে। তার ট্যাক্সও দিয়েছি। এটা তো অন্যায় নয়। সরকারের স্বার্থে করেছি, স্কুল সার্ভিস কমিশনের স্বার্থে করেছি। আমার ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়। আমি তো কেন্দ্রীয় সরকারের হয়েও আগে লড়েছি। সেন্ট্রাল গভর্মেন্ট কি আমায় টাকা দেয়নি? প্রফেশন তো প্রফেশনই। সেটা তো আর কলঙ্কিত করা যায় না।”

এর পরেই ঋতব্রতকে ধুয়ে দিয়ে কল্যাণ বলেন, “আমার পিছনে লেগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তোমার কোনও লাভ হবে না। বাংলার পাবলিক যা মারবে না পরে, বুঝতে পারবে।” তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সাংসদ বলেন, “২০২৬ সালের নির্বাচনে দাঁড়ালে কেন? সিপিএম পার্টি থেকে এসে তো তৃণমূলকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না বা মানুষকে কন্ট্রোল করা যায় না। আমার কথা হল, নির্বাচনে দাঁড়ালে কেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়ারপার্সন না থাকলে, তিনি তো ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে নেই। তাহলে তাঁর দেওয়া সিম্বল নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়ালে কেন? ঋতব্রত তৃণমূলটাকে নিজের সম্পত্তি বলে মনে করে, সেটাকে বেঁচে দিয়েছে। ওটা তো একটা দালাল। ওর থেকে বড় দালাল আর কেউ আছে? পশ্চিমবঙ্গ সবথেকে লজ্জাকর একটা মানুষের জন্ম দিয়েছে, সেটা হল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।”