পড়াশোনার পরিসর শুধু বই-খাতা আর পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে আটকে থাকলে চলবে না। পড়ুয়াদের মোবাইল-নির্ভরতা কমিয়ে তাঁদের সামাজিক ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার উপর জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Chief Minister Suvendu Adhikari)। শনিবার রাইজিং ভারত সামিটের ইস্ট এডিশনের (Rising Bharat Summit – East Edition) কলকাতা পর্বে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্কুলে এনসিসি, ব্রতচারীর মতো কার্যক্রম ফের সক্রিয় করার কথা বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যতটা সম্ভব পড়ুয়াদের মোবাইল থেকে দূরে রাখতে হবে।
আগের সরকারের আমলে একাদশ-দ্বাদশের পড়ুয়াদের মোবাইল ও ট্যাব দেওয়ার প্রথা বন্ধ করে পড়াশোনার প্রয়োজন মেটাতে বিকল্প আধুনিক সরঞ্জাম দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকেও সামাজিক দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কথায়, পড়াশোনার পাশাপাশি পড়ুয়াদের নেশামুক্ত সমাজের (Drug-free Society) বার্তা দিতে হবে এবং ব্যক্তিত্ব গঠনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গুজরাতের মডেল অনুসরণের কথাও বলেন তিনি।
শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (Aliah University) প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, আগে বিশেষ মর্যাদা পাওয়া এই প্রতিষ্ঠানকে উচ্চ শিক্ষা দফতরের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি স্কলারশিপের ক্ষেত্রেও ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’ বন্ধ করার দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আগে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের পড়ুয়ারা স্কলারশিপ পেতেন। নতুন সরকার সেই ব্যবস্থা বন্ধ করেছে।
তবে শুধু শিক্ষা বা সামাজিক সংস্কারেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। একই মঞ্চ থেকে বাংলায় বিনিয়োগের জন্য শিল্পপতিদের আহ্বান জানান তিনি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর চার মাসে শিল্পমহলের অভিজ্ঞতা কেমন, তা সরাসরি শিল্পপতিদের কাছ থেকেই জানতে চান শুভেন্দু। অর্থাৎ শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পাশাপাশি শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সরকারের নতুন দৃষ্টিভঙ্গির বার্তাই এদিনের মঞ্চ থেকে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
















