জিজ্ঞাসাবাদের সময় নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) আপ্তসহায়ক সুমিত রায় (Sumit Roy)। শনিবারের সংবাদ শিরোনামে ঘোরপাক খাচ্ছে এই খবর। কিন্তু সেই দাবি সরাসরি খারিজ করলেন সুমিতের আইনজীবী অগ্নিশ বসু। তাঁর দাবি, সিআইডি আধিকারিকদের কাছে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা কোনও অপরাধের কথা স্বীকার করেননি সুমিত। শনিবার সুমিতের সঙ্গে দেখা করার পর তাঁর সঙ্গে কথা বলেই এই দাবি করেন আইনজীবী।

শুক্রবার গ্রেফতারির পর সুমিত রায়কে মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করে সিআইডি। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে আট দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। সেই আবেদন মঞ্জুর করেন ম্যাজিস্ট্রেট। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ফের সুমিতকে আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে।

সুমিতের আইনজীবী অগ্নিশ বসু জানান, পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন প্রতিদিন আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করে পরামর্শ নেওয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনও মঞ্জুর হয়েছে। আদালতের অনুমতি অনুযায়ীই শনিবার সুমিতের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। দীর্ঘ কথোপকথনের পরই সুমিতের বিরুদ্ধে ‘অপরাধ স্বীকারের’ যে খবর সামনে এসেছে, তা নিয়ে নিজের বক্তব্য জানান অগ্নিশ।

এখানেই শেষ নয়। সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে টাকা লেনদেনের যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তাঁর আইনজীবী। অগ্নিশের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টে রক্ষাকবচ সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময় সুমিত রায় এবং সুজয় হাজরাকে একসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের প্রসঙ্গ উঠেছিল। সেই সময় সুজয় হাজরা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছিলেন যে তিনি সুমিত রায়কে কোনও টাকা পাঠিয়েছেন।

আইনজীবীর দাবি, শুধু মৌখিকভাবে নয়, ওই জিজ্ঞাসাবাদ পর্বের ভিডিয়োগ্রাফিও রয়েছে। একদিকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন সুমিত রায় নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে যে দাবি ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে, অন্যদিকে তাঁর আইনজীবী সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করছেন। অগ্নিশ বসুর বক্তব্য, সুমিতের সঙ্গে কথা বলে তিনি নিশ্চিত যে এমন কোনও স্বীকারোক্তি সিআইডি-কে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি টাকা লেনদেনের অভিযোগও তিনি নস্যাৎ করেছেন।

এখন তদন্তে সিআইডি কী তথ্য-প্রমাণ সামনে আনে এবং আদালতে সেই সংক্রান্ত কী বক্তব্য পেশ করে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও আইন মহলের।