উপাধ্যক্ষের (Vice Principal) পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়েছে মহম্মদি তরন্নুমকে (Mohammadi Tarannum)। নিয়ম মেনে তাঁর ইস্তফা হয়নি বলেও অভিযোগ। সেই ‘বেনিয়ম’ ইস্তফা এবং কলেজে তাঁর হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানালেন সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজের (Surendranath Law College) উপাধ্যক্ষ। শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেন, ‘পরিবর্তন’-এর বিজেপি সরকারের উপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। একইসঙ্গে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি তথা ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
আরও পড়ুন: ব্রিকসে পহেলগাম ইস্যুতে 'তিন বন্ধু'কে পাশে পেলেন মোদি, সন্ত্রাসবিরোধী বার্তায় কোণঠাসা পাকিস্তান
এদিন চাঁচাছোলা ভাষায় তরন্নুম বলেন, "আইন কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদে এমন একজনকে থাকা উচিত, যাঁর এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের নিয়মকানুন সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রয়েছে।" তাঁর কথায়, “যাঁরা নিয়ম জানেন না, তাঁদের দিয়ে এই গুরুদায়িত্ব সামলানো মুশকিল।” কলেজ ক্যাম্পাসের ভিতর তাঁকে কার্যত অসুস্থ করে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন উপাধ্যক্ষ। তাঁর দাবি, তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করা হয়। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে সাংবাদিক বৈঠকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
তবে গোটা ঘটনার মধ্যেও বিজেপি সরকারের উপর তাঁর আস্থা রয়েছে বলে বারবার স্পষ্ট করেন তরন্নুম। শিক্ষামন্ত্রীর উদ্যোগে সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজকে রাজ্যের অন্যতম সেরা আইন কলেজে পরিণত করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি। কলেজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান উপাধ্যক্ষ।
আরও পড়ুন: সবচেয়ে বড় দালাল! টাকা নেওয়ার খোঁচা দেওয়ায় ঋতব্রতকে ধুয়ে দিলেন কল্যাণ
বিতর্কের সূত্রপাত কলেজের নতুন গভর্নিং বডির সভাপতি তথা ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই। উপাধ্যক্ষের অভিযোগ, দায়িত্ব নেওয়ার পর সভাপতি ঘোষণা করেন, যে সমস্ত পড়ুয়ার অন্তত ৪০ শতাংশ হাজিরা রয়েছে, তাঁদের পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে। এর পরেই বুধবার ৪০ শতাংশের কম উপস্থিতি থাকা পড়ুয়ারা উপাধ্যক্ষকে ঘেরাও করেন। সভাপতির সঙ্গে আলোচনার আশ্বাসে বুধবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ উঠলেও বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, কলেজে গিয়ে ৪০ শতাংশের বেশি হাজিরা থাকা পড়ুয়াদের সঙ্গে বৈঠক করেন সভাপতি। অভিযোগ ওঠে, পরীক্ষায় বসার ছাড়পত্র পাওয়া পড়ুয়াদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে উপাধ্যক্ষ এই ধরনের আর্থিক জরিমানা নেওয়ার প্রস্তাবে আপত্তি জানান বলে দাবি। এরপরই সব পড়ুয়াকে পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়ার দাবিতে ফের ঘেরাও ও বিক্ষোভ শুরু হয়। শুক্রবার উপাধ্যক্ষের ইস্তফা দেওয়া পর্যন্ত সেই বিক্ষোভ চলে।
এই পরিস্থিতিতে তাঁর ইস্তফা আদৌ নিয়ম মেনে হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের শীর্ষস্তরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মহম্মদি তরন্নুম। একইসঙ্গে কলেজের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং গভর্নিং বডির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
















