পহেলগাম হামলার প্রসঙ্গ উঠতেই দিল্লির ব্রিকস (BRICS) মঞ্চে মিলল সন্ত্রাসবিরোধী বার্তা। যৌথ ঘোষণাপত্রে ২২ এপ্রিলের ওই জঙ্গি হামলার নিন্দা করল সদস্য দেশগুলি। ভারতের জন্য তাৎপর্য আরও বেশি, কারণ পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা চিন, রাশিয়া এবং ইরানও (China, Russia, and Iran) এই অবস্থান থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখেনি। ফলে ব্রিকসের ঘোষণাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের (Pakistan) উপর নতুন করে কূটনৈতিক চাপ তৈরি হল বলেই মনে করা হচ্ছে।
শুধু পহেলগাম হামলার নিন্দা নয়, সন্ত্রাসবাদের গোটা পরিকাঠামো নিয়েই কড়া অবস্থান নিয়েছে ব্রিকস সম্মেলন। সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিদের যাতায়াত, সন্ত্রাসে আর্থিক মদত এবং জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে সম্মিলিত লড়াইয়ের কথা বলা হয়েছে ঘোষণাপত্রে। সন্ত্রাস মোকাবিলায় কোনও দ্বৈত নীতি মেনে নেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেছে সদস্য দেশগুলি। পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে উগ্রপন্থা ও চরমপন্থী ভাবধারার বিস্তার ঠেকাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এই ঘোষণায় বিশেষ নজর কেড়েছে বেজিং ও তেহরানের (Beijing and Tehran) অবস্থান। পহেলগামের পর ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় চিন প্রকাশ্যে ইসলামাবাদের পাশে ছিল। ইরানের সঙ্গেও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। সেই দুই দেশই এবার ব্রিকসের যৌথ অবস্থানে সায় দেওয়ায় ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই ঘোষণাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২২ এপ্রিল পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। তার জবাবে ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) শুরু করে ভারত। পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গিঘাঁটিতে হামলা চালায় ভারতীয় বাহিনী। এরপর পাকিস্তানের পাল্টা হামলারও জবাব দেয় নয়াদিল্লি। কয়েক দফা সংঘর্ষের পর শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষবিরতি কার্যকর হয়। সেই ঘটনার পর ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় পহেলগাম হামলার নিন্দা ফের সামনে আসায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে।
















