রাষ্ট্রসংঘের ( UN) নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার আর বিলম্বিত করা যাবে না। ব্রিকস ( BRICS) সম্মেলনের মঞ্চ থেকে এমনই জোরালো বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ( Narendra Modi)। শনিবার নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে শুরু হয়েছে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলন। সেখানে চিনের প্রেসিডেন্ট ( China President) শি জিনপিং ( Xi Jinping), রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ( Russia President) ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin) -সহ সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্রনেতাদের উপস্থিতিতে বিশ্ব প্রশাসন ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী ( Prime Minister)। 

আরও পড়ুন: SIR শুনানিতে ডাক প্রাক্তন ক্রিকেটার লক্ষ্মণ -মিতালীর!

ব্রিকসের ২০ বছর পূর্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে মোদি বলেন, আগামী দুই দশকের জন্য সংগঠনকে আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। তাঁর কথায়, ব্রিকস সকলকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলার নীতিতেই বিশ্বাসী। বিশ্বের উন্নয়ন ও মানবতার অগ্রগতিকে সামনে রেখে সদস্য দেশগুলির মধ্যে ঐক্য আরও শক্তিশালী করার বার্তা দেন তিনি। বিশ্বের বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো অনেকটাই ‘পিরামিডের’ মতো। বিশ্বের বিভিন্ন সংকটের সম্মুখসারিতে থাকা গ্লোবাল সাউথের দেশগুলি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এখনও পিছনের সারিতে। এই পরিস্থিতি বদলে এমন একটি অংশীদারিত্বের কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে প্রতিটি দেশের মতামত ও স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই প্রসঙ্গেই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের দাবি তোলেন মোদি। তাঁর বক্তব্য, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার আর পিছিয়ে দেওয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে আলোচনা শুধু চলতে থাকলেই হবে না, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তার স্পষ্ট ফলাফলও নিশ্চিত করতে হবে। 

সেইসঙ্গে বিশ্ব প্রশাসন ব্যবস্থায় সংস্কারের লক্ষ্যে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলিকে সম্মিলিত ভাবে ১০টি প্রস্তাব তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন মোদি। তাঁর প্রস্তাব, পরবর্তী ব্রিকস সম্মেলনের মধ্যে সেই প্রস্তাবগুলিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘সংস্কার রূপরেখা’য় পরিণত করা হোক। প্রতিনিধিত্ব, জবাবদিহি এবং নিয়ম প্রণয়ন—এই তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি। প্রতি বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব বদলালেও যাতে সংগঠনের কাজের ধারাবাহিকতা নষ্ট না হয়, তার জন্যও নতুন ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগের বাস্তবায়ন যাতে নিয়মিত ভাবে পর্যালোচনা করা যায়, তার জন্য একটি ধারাবাহিকতা ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে সিদ্ধান্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা সংস্থা, নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং কাজের অগ্রগতি নথিবদ্ধ রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।


বাণিজ্য ও অর্থনীতির পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধ ও সংকট নিয়েও ব্রিকসের মঞ্চে আলোচনা প্রয়োজন বলে বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে বিশ্বে শান্তি, সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতাও জরুরি। ব্রিকসের ২০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে আগামী ২০ বছরের রূপরেখা তৈরির আহ্বান জানিয়ে মোদি বলেন, এই সম্মেলন থেকে ভবিষ্যতের পথনির্দেশ তৈরি করা প্রয়োজন। ভারত সবসময় মানবতা ও সকলকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলার বার্তায় বিশ্বাসী—ব্রিকসের মঞ্চ থেকে সেই অবস্থানই আরও একবার স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী।