লালকেল্লার (Red Fort) কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের নেপথ্যে ছিল গভীর ষড়যন্ত্র। এনআইএ-র (NIA) চার্জশিটে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, দিল্লিতে (Delhi) হামলা চালানোর আগে হরিয়ানার আল-ফালহা বিশ্ববিদ্যালয় (Al-Falah University) এবং আরাবল্লির জঙ্গলে বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্রের একাধিক পরীক্ষা চালিয়েছিল অভিযুক্ত জঙ্গিরা। গত বছরের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় লালকেল্লার কাছে একটি গাড়িতে  বিস্ফোরণে ১১ জনের মৃত্যু হয়। তদন্তে নেমে এনআইএ জানতে পারে, হামলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল তার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই। আদালতে জমা দেওয়া চার্জশিট অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে আল-ফালহা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই বিস্ফোরকের পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ব্রিকস নিয়ে চিদম্বরম বেসুরো, থারুরের মুখে ফের মোদির স্তুতি

তদন্তকারীদের বক্তব্য, চিকিৎসক জঙ্গি উমর, গনাই ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জসির বিলাল ওয়ানি এই পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত ছিল। গনাইয়ের ফ্ল্যাটে তৈরি করা হয়েছিল নাইট্রো-গ্লিসারিন। পরে সেটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষা সফল হওয়ার পর আরও বড় পরিসরে বিস্ফোরকের কার্যকারিতা যাচাই করতে আরাবল্লির জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয় উপকরণ। সেখানে ট্রায়াসিটন ট্রাইপারক্সাইড বা টিএটিপি নিয়েও পরীক্ষা চালানো হয়েছিল বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেছে এনআইএ।

আরও পড়ুন: অভিযোগ নিষ্পত্তিতে গতি আনতে উদ্যোগ, ১৬ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য কমিশনের প্রথম বৈঠক

শুধু বিস্ফোরক নয়, হামলার জন্য জোগাড় করা অস্ত্র নিয়েও পরীক্ষানিরীক্ষা চলেছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। এনআইএ-র অভিযোগ, আল-ফালহার সহকারী অধ্যাপক চিকিৎসক শাহিন শাহিদ দিল্লিতে বড়সড় হামলার উদ্দেশ্যে আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দের সদস্যদের ১৬ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। ওই অর্থ গনাইয়ের মাধ্যমে জঙ্গিদের কাছে পৌঁছয়। সেই টাকায় একটি একে-৪৭, একটি ক্রিনকভ রাইফেল এবং দু’টি পিস্তল কেনা হয়। আরাবল্লির জঙ্গলেই অস্ত্রগুলির পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি এনআইএ-র। 

একসঙ্গে সবকিছু না কিনে ধাপে ধাপে বাজার থেকে বিভিন্ন সামগ্রী সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে চার্জশিটে। প্রথমে সেগুলি অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটে রাখা হয়। পরে তা সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ধৌজের একটি ভাড়া বাড়িতে।

তবে তদন্তের সবচেয়ে বড় চমক হামলার লক্ষ্য নিয়ে। এনআইএ-র দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী লালকেল্লা প্রথম নিশানা ছিল না। কাছেই থাকা জৈন মন্দির ‘লাল মন্দির’-কে টার্গেট করার কথা ছিল হামলাকারীদের। কিন্তু ওই এলাকায় তীব্র যানজট এবং পুলিশের উপস্থিতি দেখে শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বদলে ফেলে নবি। গাড়িটি ঘুরিয়ে লালকেল্লার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

কয়েক মিনিটের মধ্যেই, সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট নাগাদ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এলাকা। প্রাণ হারান ১১ জন। গুরুতর জখম হন আরও বহু মানুষ। এবার সেই হামলার তদন্তে এনআইএ-র চার্জশিটে উঠে এল, বিস্ফোরণের আগেই কীভাবে অভিযুক্তরা বিস্ফোরক ও অস্ত্রের কার্যকারিতা যাচাই করে হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল তার বিস্তারিত তথ্য।