নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে শুরু হতে চলেছে অষ্টাদশতম ব্রিকস ( BRICS) শীর্ষ সম্মেলন। দু’দিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সমাবেশ হতে চলেছে। সম্মেলনের আগে শুক্রবারই দিল্লিতে ( Delhi) পৌঁছে গিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ( Russia President) ভ্লাদিমির পুতিন ( Vladimir Putin ) । চিনের প্রেসিডেন্ট ( China President) শি জিনপিং ( Xi Jinping ) এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-সহ আরও কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রনেতাও সম্মেলনে যোগ দেবেন।
আরও পড়ুন: আমেরিকার ভাই ও বোনেরা: শিকাগো ভাষণের ১৩৩ বছর পূর্তিতে স্বামীজিকে স্মরণ প্রধানমন্ত্রীর
সম্মেলন শুরুর আগেই ব্রিকস নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ( Narendra Modi)। তিনি লেখেন, “আগামী কয়েক দিনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রাষ্ট্রপ্রধানেরা ব্রিকসের বৈঠকে যোগ দিতে একত্রিত হবেন। বিশ্বকল্যাণের লক্ষ্যে সম্মেলনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ইতিবাচক ও অর্থবহ আলোচনা হবে । ”বিশ্বের যাতে কল্যাণ হয় সেই বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
শুক্রবার ভারতে এসে পৌঁছেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে পালাম বায়ুসেনা ঘাঁটিতে অবতরণ করেন তিনি। তাঁকে স্বাগত জানান বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশের বাইরে কোনও ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে পুতিনের এটিই প্রথম সশরীরে যোগদান। পুতিনের ভারত সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। শুক্রবার বিকেলে দু’দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং ভারত-রাশিয়া সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে এ বারের ব্রিকস সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উপস্থিতিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। গালওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম ব্রিকসের বৈঠকে যোগ দিতে ভারতে আসছেন চিনা প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা সংঘাতের আবহে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দিল্লি সফরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার মতো বিষয়গুলি সম্মেলনের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি বর্তমান উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ব্রিকস দেশগুলির পারস্পরিক সহযোগিতা কী ভাবে আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাশিয়া, চিন ও ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ শক্তির রাষ্ট্রপ্রধানদের একই মঞ্চে উপস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে ইরানের উপস্থিতি যোগ হওয়ায় পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, বাণিজ্যিক টানাপড়েন, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার মতো একাধিক সংকটের মধ্যেই বসছে এ বারের ব্রিকস সম্মেলন। ফলে আগামী দু’দিন অর্থ্যাৎ ১২ এবং ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লি সম্মেলনের দিকে নজর থাকবে গোটা বিশ্বের।















