দেশজুড়ে ফের ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক (Bank Strike)। শুক্রবার অর্থাৎ ১১ সেপ্টেম্বর ধর্মঘটের পথে যাচ্ছেন ব্যাঙ্ক কর্মী ও আধিকারিকদের সাতটি সংগঠনের যৌথ মঞ্চ ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস ( UFBU)। ফলে চলতি সপ্তাহে টানা তিন দিন ব্যাঙ্ক পরিষেবা ( Bank Service) ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, ধর্মঘটের পরের দিন ১২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় শনিবার এবং ১৩ সেপ্টেম্বর রবিবার দুই দিনই ব্যাঙ্কের স্বাভাবিক ছুটি।
প্রতি সপ্তাহে দু’দিন ছুটি-সহ একাধিক দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রের কাছে সরব ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলি। গত ৬ সেপ্টেম্বর বৈঠকে বসে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ইউএফবিইউ। সংগঠনটির দাবি, ১১ সেপ্টেম্বর সরকারি ও বেসরকারি দুই ধরনের ব্যাঙ্কেই ধর্মঘটের প্রভাব পড়বে। ফলে নগদ লেনদেন থেকে শুরু করে এটিএম পরিষেবাতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন: ঘরে জমেছে অনলাইন ডেলিভারির খালি বাক্স? ফেলে দেওয়ার আগে দেখুন এই ৫ অভিনব টিপস!
কি কারণে এই ধর্মঘট? ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলির দাবি, ব্যাঙ্কেও সপ্তাহে পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করতে হবে। বর্তমানে ব্যাঙ্ক কর্মীদের কয়েকটি শনিবারও কাজ করতে হয়। ইউনিয়নগুলির প্রস্তাব, সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রতিদিন কাজের সময় কিছুটা বাড়ানো যেতে পারে, যাতে শনিবার ছুটি দেওয়া সম্ভব হয়। এর পাশাপাশি কর্মীদের কাজের ভিত্তিতে উৎসাহ ভাতা দেওয়ার বর্তমান পদ্ধতি নিয়েও আপত্তি রয়েছে সংগঠনগুলির। তাদের দাবি, এই ব্যবস্থায় অনেক কর্মী ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। যদিও এই ব্যবস্থা আপাতত স্থগিত রেখেছে কেন্দ্র।
অন্যদিকে ব্যাঙ্ক কর্মীদের একাংশের মতে, তাদের একাধিক দাবির বিষয়ে কেন্দ্রের অবস্থান এখনও ইতিবাচক নয়। সেই কারণেই ১১ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গেও ধর্মঘটের ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ১১ সেপ্টেম্বরের ধর্মঘটেই বিষয়টি থেমে থাকছে না। দাবি পূরণ না হলে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউএফবিইউ। সংগঠনের ঘোষণা অনুযায়ী, ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিনের ধর্মঘট হতে পারে। তার সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হওয়ায় তখন টানা পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক পরিষেবা বন্ধ থাকার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাতেও দাবি পূরণ না হলে ২৬ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
















