আজকাল উৎসবের মরশুম হোক বা সাধারণ দিন, অনলাইন শপিং আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। জামাকাপড়, গ্যাজেট থেকে শুরু করে মুদিখানার জিনিস—সবই এখন ঘরের দরজায় হাজির হয়। কিন্তু কেনাকাটার এই আনন্দের পাশাপাশি বাড়তি পাওনা হিসেবে ঘরে জমে ওঠে স্তূপীকৃত কার্ডবোর্ডের ডেলিভারি বক্স। অনেকেই ঘরের জায়গা নষ্ট হচ্ছে দেখে এগুলি আবর্জনার ঝুড়িতে ফেলে দেন। কিন্তু আপনি একটু বুদ্ধি খাটালেই এই কার্ডবোর্ডের বাক্স দিয়েই তৈরি করে ফেলতে পারেন ঘর গোছানোর সরঞ্জাম। রঙিন কাগজ বা কাপড়, আঠা দিয়েই দেওয়া যায় একেবারে নতুন রূপ। তবে ব্যবহারের আগে বক্সটি পরিষ্কার, শুকনো এবং শক্ত অবস্থায় আছে কি-না দেখে নিলেই হবে।
আরও পড়ুন: রুপোলি পর্দায় বিরুষ্কার অভিষেক! ‘হনুমান অংশ’-এর সিক্যুয়েলে বিরাট চমকের অপেক্ষায় সিনে প্রেমীরা
১। ড্রয়ার বা আলমারির অর্গানাইজার
ছোট বা মাঝারি মাপের ডেলিভারি বক্সগুলোর ওপরের অংশ কেটে নিন। এবার সেগুলোকে ঘরের আলমারি বা টেবিলের ড্রয়ারের ভেতরে বসিয়ে দিন। এর মধ্যে আপনার মোজা, রুমাল, অন্তর্বাস, বেল্ট, কিংবা চশমা আলাদা আলাদা করে সাজিয়ে রাখতে পারেন। বাক্সগুলোকে দেখতে সুন্দর করতে রঙিন কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে নিতে পারেন।
২। ম্যাগাজিন ও বই রাখার স্ট্যান্ড
একটু বড় ও শক্ত কার্ডবোর্ডের বাক্সের একদিকের কোণাকুণি অংশ কেটে বুক স্ট্যান্ডের আকার দিন। পছন্দের রঙিন কাগজ বা নকশাদার কাপড় আঠা দিয়ে বাক্সের গায়ে আটকে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে চমৎকার ম্যাগাজিন হোল্ডার। বসার ঘরের টেবিলে বা পড়ার টেবিলে এটি রাখলে বইপত্র ছড়িয়ে থাকবে না।
৩। ডেস্ক অর্গানাইজার
কলম, পেন্সিল, কাঁচি, স্টিকি নোট, আঠা, ও ছোট স্টেশনারি দ্রব্য এক জায়গায় গুছিয়ে রাখতে ডেলিভারি বক্স দিয়ে ডেস্ক অর্গানাইজার বানিয়ে নিন। কয়েকটি ছোট বাক্স পাশাপাশি জুড়ে বা একটি বড় বাক্সের ভিতরে ভাগ তৈরি করে নিলেই কাজ হয়ে যাবে। নিজের পছন্দমতো কাগজ বা রং দিয়ে সাজিয়ে নিলে সাধারণ কার্ডবোর্ডও দেখতে আকর্ষণীয় লাগবে।
৪। রান্নাঘরের মসলা ও ছোট প্যাকেটের বাক্স
রান্নাঘরের সেলফে নানা রকমের ছোট মসলার প্যাকেট, সসের পাউচ বা চা পাতার প্যাকেট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। ছোট ডেলিভারি বাক্স কেটে রান্নাঘরের এক কোণে বসিয়ে তার মধ্যে এই খুচরো প্যাকেটগুলো গুছিয়ে রাখুন। এতে রান্নার সময় যেমন চটপট জিনিস খুঁজে পাবেন, তেমনই রান্নাঘরও থাকবে পরিষ্কার।
৫। ঘরের অব্যবহৃত জিনিসের স্টোরেজ বিন
যে সমস্ত জিনিস প্রতিদিন কাজে লাগে না, যেমন উৎসবের মরশুমের টুনি লাইট, অতিরিক্ত বিছানার চাদর, পুরনো নথিপত্র কিংবা বাচ্চাদের খেলনা—সেগুলো রাখার জন্য বড় ডেলিভারি বক্সগুলো দারুণ উপযোগী। ভারী জিনিস রাখার আগে বাক্সের তলাটি ভালো করে শক্ত টেপ দিয়ে মুড়ে নিন। বাক্সের গায়ে একটি লেবেল সেঁটে লিখে রাখুন ভেতরে কী আছে। এরপর বাক্সগুলি খাটের নিচে বা আলমারির ওপরে তুলে রাখুন।
আরও পড়ুন: ‘পরিবর্তন’: কেন্দ্রের জুমলা নিয়ে নতুন শর্ট ফিল্ম হুমায়ুন কবীরের, দিলেন পরের ছবির ইঙ্গিতও
এছাড়া বাড়িতে বিড়াল বা কুকুর থাকলে, পুরনো বাক্স কেটে ভেতরে নরম কাপড় বিছিয়ে তাদের বসার বা ঘুমানোর জন্য একটি আরামদায়ক আস্তানা তৈরি করে দেওয়া যায়। তবে ডেলিভারি বক্সগুলো ঘরের কাজে লাগানোর আগে বা ফেলে দেওয়ার আগে অবশ্যই একটি বিষয় মাথায় রাখবেন। বাক্সের গায়ে সেঁটে থাকা ডেলিভারি লেবেলটি (যেখানে আপনার নাম, ফোন নম্বর ও ঠিকানা লেখা থাকে) ছিঁড়ে ফেলুন বা কালির মার্কার দিয়ে মুছে দিন। আজকাল এই লেবেলের তথ্য ব্যবহার করে নানা ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতি বা স্ক্যাম হচ্ছে, তাই এইটুকু সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি।
তাহলে আর দেরি কেন? আজই ঘরের কোণে জমে থাকা বাক্সগুলো আবর্জনা না ভেবে কাজে লাগিয়ে দিন নিজের মতো করে!
















