সামনেই পুজো। ওজন কমাতে মরিয়া অনেকেই। কেউ সকালে উঠে চা-য়ে চুমুক দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ব্ল্যাক কফিতে চুমুক দিচ্ছেন। ব্ল্যাক কফি বা গ্রিন টি—দুটি পানীয়ই অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং শরীরের মেদ ঝরাতে ও ওজন কমাতে ভীষণ কার্যকরী। দুটিতেই ক্যালোরি কম থাকে এবং ফ্যাট থাকে না বললেই চলে। এগুলো হজমে সাহায্য করে এবং মেটাবলিজম ও ফ্যাট বার্নিং প্রক্রিয়াকে গতিশীল করে। তবে দুটির কার্যকারিতা ও পুষ্টিগুণে কিছু পার্থক্য রয়েছে, দেখে নিন কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা

১. উপাদান ও পুষ্টিগুণ
গ্রিন টি-তে ক্যাফেইন এবং ক্যাটচিন নামক এক ধরনের ফ্ল্যাভোনয়েড (অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট) থাকে। এছাড়াও এতে ভিটামিন বি, ফোলেট, ম্যাগনেসিয়াম ও ফ্ল্যাভিনয়েডস রয়েছে।
অন্যদিকে, ব্ল্যাক কফি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে (যেমন পলিফেনল ও ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড) ভরপুর। এতে ভিটামিন বি২, বি৩, বি৫, ম্যাঙ্গানিজ, পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে।
২. ক্যাফেইনের মাত্রা ও শক্তি বৃদ্ধি
এক কাপ ব্ল্যাক কফিতে প্রায় ৯০–১০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে। অতিরিক্ত ক্যাফেইনের কারণে এটি স্নায়ুতন্ত্রকে দ্রুত উদ্দীপিত করে এবং চটজলদি এনার্জি জোগায়। এটি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা, মনোযোগ এবং একাগ্রতা বাড়াতে সাহায্য করে।
গ্রিন টিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ বেশ কম (এক কাপে প্রায় ২৫–৫০ মিলিগ্রাম), যা স্নায়ুর ওপর কম চাপ সৃষ্টি করে।
তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করলে পেটের সমস্যা, অনিদ্রা এবং হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ডায়েটিশিয়ানদের মতে, দিনে ২ থেকে ৩ কাপের বেশি ব্ল্যাক কফি বা গ্রিন টি পান করা উচিত নয়।

৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ ও মেটাবলিজম
চিনি বা দুধ ছাড়া ব্ল্যাক কফি পান করলে মেটাবলিজম রেট ৩ থেকে ১১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এটি ফ্যাট বার্ন করতে সাহায্য করে এবং মেটাবলিক কার্যকারিতা বাড়ার ফলে খিদে কম পায়, যা অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে দূরে রাখে। ওজন কমাতে ইনস্ট্যান্ট কফির পরিবর্তে ফিল্টার কফি বা আসল কফি বিন (ফ্রেঞ্চ প্রেস বা ড্রিপ পদ্ধতিতে তৈরি) বেশি উপকারী।
গ্রিন টি-এর মধ্যে থাকা ক্যাটচিন হজমপ্রক্রিয়া বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং দেহের অতিরিক্ত মেদ কমিয়ে দেয়। ২০১০ সালের এক সমীক্ষায় গ্রিন টি-র মাধ্যমে ওজন কমানোর ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।
৪. ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস
ব্ল্যাক কফিতে উপস্থিত ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি রোধ করতে এবং ইনসুলিনের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে, যা টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।
গ্রিন টি হার্টের সমস্যা দূর করতে, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল এবং আলঝাইমার রোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে দারুণ কাজ করে।
৫. মস্তিষ্ক, স্মৃতিশক্তি ও শারীরিক কর্মক্ষমতা
নিয়মিত ব্ল্যাক কফি পান করলে স্মৃতিশক্তি ভালো থাকে এবং অ্যালঝাইমার ও পার্কিনসনের মতো স্নায়বিক রোগের ঝুঁকি কমে। এছাড়া ব্যায়াম বা খেলাধুলার আগে এটি পান করলে শরীরে অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা বাড়ে, ফলে শক্তি ও সহনশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘ সময় কার্যকরভাবে ব্যায়াম করা সম্ভব হয়।
গ্রিন টি শরীরের বিপাক ক্রিয়া বাড়িয়ে সামগ্রিক কার্যকারিতা উন্নত করে।
৬. বিশেষজ্ঞদের মতামত
ডেডলাইন মেইনটেইন করে রাত পর্যন্ত কাজ করতে বা ক্লান্তি দূর করতে সাধারণত কফির প্রতি আসক্ত হন।
অন্যদিকে, আজকাল সব বয়সের মানুষের মধ্যে ওজন কমাতে গ্রিন টি খাওয়ার ক্রেজ বেশ বাড়ছে। কেউ সকালে, আবার কেউ দুপুরের খাবারের পর গ্রিন টি পান করতে পছন্দ করেন। সামগ্রিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করলে অনেক বিশেষজ্ঞ গ্রিন টি-কে ব্ল্যাক কফির চেয়ে বেশি উপকারী মনে করেন, আবার বহু বিশেষজ্ঞ চায়ের তুলনায় ব্ল্যাক কফিকেই বেশি ভালো বিকল্প বলে মনে করেন।















