দিন যত যাচ্ছে এল নিনো (El Niño) ততো উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো জলবায়ু পরিস্থিতি। এর জেরে বিশ্বজুড়ে বাড়বে স্বাস্থ্যঝুঁকি। সেই তালিকায় রয়েছে ভারতও। সতর্ক করে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আবহাওয়া পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাবে ভারতে বাড়বে ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়া আর গরমজনিত নানা অসুখ।
আরও পড়ুন: রাজ্যে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নোটিশ সরকারের, শোকজ ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে
WHO-র 'Global Public Health Situation Analysis—El Niño 2026' রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আগাম প্রস্তুত করতে এবং সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিকল্পনা করতে সাহায্য করাই এই মূল্যায়নের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে হু।
এল নিনও দক্ষিণ এশিয়াকে (South asia) কাবু করবে। হু জানিয়েছে, তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণে বদল আসার ফলে যে কটি দেশের ঝুঁকি খুবই বেশি তার মধ্যে ভারত অন্যতম। গরম ও বৃষ্টি বাড়ার ফলে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়বে, ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর চাপও বেড়ে চলবে। মৌসম ভবন এই বিষয়ের উপর নজর রাখছে। কিন্তু অক্টোবর-ডিসেম্বরের মধ্যে এল নিনওর প্রভাব বাড়বে বলে তারা জানিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং আর্দ্রতার পরিবর্তন মশার বংশবৃদ্ধি ও রোগ সংক্রমণের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া ছড়ায় যে মশার মাধ্যমে, তাদের প্রজনন ও রোগ সংক্রমণের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তাপমাত্রা বাড়লে মশার জীবনচক্রের কিছু পর্যায় দ্রুত হতে পারে। অন্যদিকে অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের ফলে নালা, বিভিন্ন পাত্র, নির্মাণস্থল বা জমে থাকা জলে মশার প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হতে পারে। তবে বেশি গরম মানেই যে সরাসরি বেশি ডেঙ্গু-বিষয়টি এতটা সরল নয়। মশার প্রজাতি, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা, জল সংরক্ষণের পদ্ধতি, পরিচ্ছন্নতা এবং মশা নিয়ন্ত্রণের মতো একাধিক বিষয়ের উপর রোগের প্রকোপ নির্ভর করে।
দ্রুত হয় মশার জীবনচক্র
তাপমাত্রা বাড়লে এডিস ইজিপ্টাই মশার শরীরে ডেঙ্গি ভাইরাসের বিকাশ প্রক্রিয়া দ্রুত হয়। অন্যদিকে, অনিয়মিত বৃষ্টির কারণে শহরের নিকাশি নালা, এয়ার কুলার এবং বাড়িতে জল জমিয়ে রাখার পাত্রে জল জমে থাকে। এই জমা জল মশার বংশবিস্তারের আদর্শ জায়গা তৈরি করে।
আরও পড়ুন: ৮০% ভারতীয় আমিষাশী: ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের নিরামিষ খাওয়ালেন মোদি, সরব রাহুল
দ্রুত বংশবৃদ্ধি হচ্ছে মশার
ভারতের জনবহুল বড় শহরগুলিতে গড় তাপমাত্রা মাত্র ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গেলেও, বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা অল্প জলে দ্রুত মশার বংশবিস্তার হতে পারে। এর ফলে ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
কাদের অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বর্তমানে এল নিনোর প্রভাবে দিল্লি, মহারাষ্ট্রে ডেঙ্গির প্রকোপ ব্যাপক হারে বেড়েছে। অন্যদিকে, দিনমজুর বা শ্রমিকরা, যারা রোদে-জলে খাটুনি করেন, অতিরিক্ত গরমে চরম ক্লান্তিভাব, ডিহাইড্রেশন, অ্যাকিউট মেটাবলিক কমপ্লিকেশনের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। মূলত গর্ভবতী, নবজাতক, প্রসূতি ও প্রবীণ নাগরিকদের ঝুঁকি সবথেকে বেশি।
















