লাগাতার ভারী বৃষ্টিতে ফের ধস ( Landslide) নামল সিকিমের ( Sikkim) পাহাড়ে। পশ্চিম সিকিমের রিম্বি গ্রামে ভূমিধসের জেরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ ( Road Close) হয়ে যায়। ফলে ওই পথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। ধসের জেরে রাস্তার কাছাকাছি থাকা দু’টি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। সূত্রের খবর, শনিবার ইউকসম-তাশিডিং বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত রিম্বি ও খেচুপেরির মধ্যে যোগাযোগকারী রাস্তাতেই এই ধস নামে। পাহাড়ের ঢাল এখনও অস্থিতিশীল থাকায় বৃষ্টি চলতে থাকলে আরও ধস নামার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় প্রশাসন। 

আরও পড়ুন: মাঝ আকাশে বিকল এয়ার ইন্ডিয়া ইঞ্জিন, জরুরি অবতরণ জয়পুরে

গত কয়েক দিন ধরে প্রবল বৃষ্টিতে ( Heavy Rain) সিকিমের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি দার্জিলিং ( Darjeeling) পাহাড়েও একের পর এক ধস ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটছে। কোথাও রাস্তা বন্ধ হয়েছে, কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেতু ( Bridge)। ফলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। দার্জিলিংয়ের তাবাকোশিতেও বৃষ্টির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রংভাঙ নদীর উপর থাকা অস্থায়ী সেতু। কয়েক দিন আগে মিরিকের পাইলাগাঁও-লাবারবোটে এলাকায় বড় ধস নেমে রংভাঙ খোলায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট গভীর প্রাকৃতিক জলাধারের মতো বাধ তৈরি হয়েছিল। ফলে নীচের দিকে আচমকা জল নেমে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে লাবারবোটে লোয়ার পালজার গাঁও এলাকার ৩৩টি পরিবারের ১২৪ জনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

 

পরে ভারী বৃষ্টির জেরে সেই প্রাকৃতিক বাধ ভেঙে জল নীচের দিকে নেমে আসে। তার জেরে তাবাকোশির অস্থায়ী সেতুটির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর শুরু হয়েছে মেরামতির কাজ। শুধু তাবাকোশি নয়, দুধেতে বালাসন নদীর উপর থাকা একটি হিউম পাইপ সেতুও জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। ওই সেতুটি মূলত ছয় টনের বেশি ওজনের যানবাহন, বিশেষ করে মিরিক ও শিলিগুড়ির মধ্যে চলাচলকারী পণ্যবাহী গাড়ির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ফলে ওই রুটেও যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

 

এদিকে দার্জিলিং পুলবাজার ব্লকের অধীন শ্রীখোলা ও রাম্মনের মধ্যে দারাগাঁও হয়ে যাওয়া রাস্তাতেও বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। পাহাড়ি এলাকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের যাতায়াত নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি এখনও পুরোপুরি থামেনি। ফলে সিকিম ও দার্জিলিং পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে নতুন করে ধস, হড়পা বান এবং রাস্তা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন। প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া এবং জরুরি পরিষেবা চালু রাখার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

 

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। সোমবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। মঙ্গলবার কালিম্পং ও জলপাইগুড়িতে এবং বুধবার দার্জিলিংয়ে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিনেও পাহাড়ি এলাকায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক আধিকারিকেরা।