২০২৭ সালে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে কার্যত সেমিফাইনাল। রাম মন্দিরে প্রণামী চুরিসহ একাধিক ইস্যুতে চাপ বাড়ছে যোগী আদিত্যনাথের উপর। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরও দিচ্ছেন না যোগী।

 

শনিবার যোগীর সাংবাদিক সম্মেলনে দেখা গেল অভূতপূর্ব দৃশ্য। রাজধানী শহর লখনউতে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সাংবাদিক সম্মেলনে এলেন কিছু সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরও দিলেন না। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীকে একজন মহিলা সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তিনি পড়লেন সরকারি রোষানলে।   যা  গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ক্ষমতার জবাবদিহিতার ওপর গুরুতর প্রশ্ন তুলে ধরেছে। 

 

যোগী নিজের বক্তব্য শেষ করে কোনও সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই যখন মঞ্চ থেকে উঠে চলে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই সাংবাদিক দিব্যা শ্রীবাস্তব মুখ্যমন্ত্রীকে থামিয়ে বলেন , "যখন প্রশ্নের উত্তরই দেবেন না, তখন প্রেস কনফারেন্স কেন করেন?"

একজন মহিলা সাংবাদিকের কাছ থেকে  এমন প্রতিক্রিয়া পেয়ে স্বভাবতই ক্ষুব্ধ হন যোগী।  কিন্তু দিব্যা কোনও ভয় ছাড়াই সাংবাদিকতার আসল ধর্ম পালন করেছেন।

 

অবশ্য, এই ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ দিব্যাকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।  বিরোধী দলগুলিকে এটিকে সাংবাদিক হেনস্থা এবং ভয় দেখানোর চেষ্টা বলে অবিহিত করেছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক সূত্রগুলি এর সাফাই দিয়ে এটিকে কেবল ভিআইপি নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং সাধারণ নিয়মের অধীনে হওয়া একটি রুটিন আলোচনা বলে দাবি করেছে।

 

দাবি এবং প্রশাসনিক যুক্তির এই বিরোধের মাঝে, দিব্যা শ্রীবাস্তবের এই সাহসী পদক্ষেপ কিন্তু নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।  সাংবাদিকতার আসল কাজ ক্ষমতার জয়গান গাওয়া নয়, বরং সমাজের দর্পণ হয়ে জনগণের পক্ষ থেকে কঠিন এবং জরুরি প্রশ্ন করা।

 

মোদির পথেই কি হাঁটছেন যোগী! কারণ মোদিও গত ১২ বছরে একবারও সাংবাদিক সম্মেলন করেননি। অনেকেই যোগীকে আগামী দিনে দিল্লিতে মোদির উত্তরসূরি বলছেন। ফলে এখন থেকে মোদির কাজকর্মকে রপ্ত করে নিচ্ছেন যোগী?