ব্রিকসের মঞ্চ থেকে বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবার মোদির সেই প্রস্তাবকে সম্মতি দিল খোদ রাষ্ট্রসংঘই। আগামী দিনে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ ভারত যে পেতে পারে তারও আভাস পাওয়া গেল।

নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের অষ্টাদশ সম্মেলন উপলক্ষে বিশ্বের তাবড়ও রাষ্ট্রনেতাদের সামনে দক্ষিণ এশিয়াকে যেভাবে পিছনের সারিতে রাখা হয়েছে তা নিয়ে সমালোচনায় সরব হন মোদি। তিনি এমনকি বিশ্ব শাসন ব্যবস্থায় যে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার রয়েছে সে কথাও তুলে ধরেন।

 

মোদি বলেন, ক্ষমতার পিরামিডকে এমন একটি অংশীদারিত্বের রূপান্তরিত করতে হবে যেখানে প্রতিটি দেশ এবং জাতি বলার সুযোগ পায়। প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের স্বার্থ বজায় থাকবে প্রতিটি প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে মানবজাতির উন্নয়ন। রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার  দেরি করা যাবে না। ভারত দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্থায়ী নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যভুক্ত হতে চেষ্টা চালাচ্ছে।

 নরেন্দ্র মোদির এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্র সংঘের মহাসচিব অন্তনীয় গুতেরেসের মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিচ সংবাদসংস্থা  বলেছেন, ভালো করে যদি দেখা হয় মাননীয় মহাসচিব দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের মৌলিক প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে। রাষ্ট্র সংঘ শান্তি এবং নিরাপত্তা কাঠামো কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই নিরাপত্তা পরিষদ। কিন্তু যেখানে মাত্র পাঁচ জন সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে। যা একুশ শতকে ব্যবস্থার প্রতিফলন নয়, নিরাপত্তা পরিষদ হোক বা আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এগুলি বদল আনা প্রয়োজন কারণ ১৯৪৫ সাল আর ২০২৬ সালের বাস্তব প্রতিফলন অনেকটাই আলাদা। এগুলিকে সময় উপযোগী সংস্কার করতে হবে ।যাতে সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বমূলক আরও অধিক কার্যকর হয়ে উঠতে পারে।

 

 এই মুহূর্তে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী দেশ হল চিন, রাশিয়া, আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স। এই পাঁচটি সদস্য দেশের পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার লড়াই রয়েছে ভারত। কিন্তু ভারতের সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে বরাবরই বিরোধিতা করে এসেছে চিন। রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিয়ম অনুযায়ী কোন নয়া নীতি পাশ করতে গেলে পাঁচটি দেশকেই একসঙ্গে সমর্থন করতে হবে। কিন্তু চীন বারবার ভেটো প্রয়োগ করে। তাই ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিড়ম্বনা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসের সম্মেলন থেকে চিনের প্রেসিডেন্ট জিংপিংকে পাশে বসিয়ে সংস্কারের দাবি তুললেন  মোদি। তাঁর কথা  যেভাবে সমর্থন করলেন রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব তাতে অদূর ভবিষ্যতে ভারত রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের পেতে পারে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।