জাপানের (Japan) রেনকোজি মন্দিরে রাখা নেতাজির 'চিতাভস্ম' ভারতের ফিরিয়ে আনতে চেয়ে দীর্ঘদিন আগেই মামলা করেছেন তাঁর মেয়ে অনিতা বসু পাফ (Anita Basu Puff)। সেই মামলায় কেন্দ্রের অবস্থান জানতে চেয়ে। কয়েকদিন আগেই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট কিন্তু বাঙালির মনে আজও অমর দেশনায়ক সুভাষচন্দ্র বসু (Subhas Chandra Bose)। আজ থেকে প্রায় ৮২ বছর আগে ১৯৪৫-এর ২৩ অগাস্ট গোটা বিশ্ব জানে যে ১৮ অগাস্ট মাঞ্চুরিয়া যাওয়ার পথে তাইহোকু বিমানবন্দরে দুর্ঘটনায় প্রয়াত হন নেতাজি। তৎকালীন অন্যতম প্রধান বাংলা সংবাদপত্র ‘যুগান্তর’-এর প্রথম পাতার শিরোনাম হয় এই সংবাদ।
‘চলো দিল্লি’: রিল থেকে রিয়েলে আজও প্রসঙ্গিক নেতাজি
ডাক বাংলা.com-এ তন্ময় ভট্টাচার্যের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে নিয়ে, কিছু অংশ সম্পাদনা করে।
Sponsored

এ-খবরের সত্যতা কতটুকু, তা নিয়ে পরবর্তী দশকগুলিতে বারবার সন্দেহ দানা বেঁধেছে বাংলা তথা ভারতে। বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যুর বিষয়টি অধিকাংশ বাঙালি কোনওদিনই বিশ্বাস করতে পারেননি। আর, তথাকথিত বিমান দুর্ঘটনা ও ভারতের স্বাধীনতার মধ্যবর্তী সময়ে, বাঙালির কাছে তো বটেই, অবশিষ্ট ভারতবাসীর কাছেও নেতাজি ও তাঁর ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (আইএনএ) থেকেছে আবেগ ও আলোচনার অন্যতম শীর্ষে।
১৯৪৮-এর ২৩ জানুয়ারি সুভাষকে কেন্দ্র করে মুক্তি পেল দু’টি চলচ্চিত্র। কিন্তু কাহিনি কালের গর্ভে হারিয়ে গেল। তবে বিনোদনের বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর উপস্থিতি ছিল অনতিক্রম্য। চলচ্চিত্র তো বটেই, পাশাপাশি কখনও থিয়েটারে, কখনও গ্রামাফোন রেকর্ডে সুভাষের ভাষণ প্রকাশের মাধ্যমে, কখনও আবার আইএনএ-র সংগীত প্রকাশের সূত্রে সর্বদাই চর্চায় ছিলেন নেতাজি।
সুভাষচন্দ্র রেঙ্গুনে পৌঁছনোর পরে আইএনএ-কে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেন এক প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী বি সি মেহতা। ১৯৪৪-’৪৫-এ জাপানিদের সহায়তায় আইএনএ বার্মায় কিছু প্রাথমিক সাফল্য পেলেও, পরে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়। মতপার্থক্য সত্ত্বেও, ভারতের জাতীয় কংগ্রেস ও আইএনএ-র ভিতরে প্রচ্ছন্ন যোগাযোগ ছিলই। রেঙ্গুন ছেড়ে পশ্চাদপসরণের আগে, আইএনএ-র প্রচার বিভাগের উদ্যোগে আজাদ হিন্দ ফৌজের ওপর একটি তথ্যচিত্র নির্মিত হয়। লক্ষ্য ছিল কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের কাছে তা পাঠিয়ে জনমত ও সমর্থন আদায় করা। জাপানিদের সহায়তায় নির্মিত সেই তথ্যচিত্রের নাম দেওয়া হয় ‘চলো দিল্লি’। সুভাষের অস্থায়ী স্বাধীন ভারত সরকারের ‘জাতীয় চলচ্চিত্র’-র আখ্যাও পেয়েছিল সেটি। আইএনএ-র মুখপত্র ‘আজাদ হিন্দ’-এর একটি সংখ্যায় (২৩ অক্টোবর ১৯৪৪) দেখা যায় এর উল্লেখ— "The screening of the national film— Chalo Delhi— which was preceded by a number of Nippon newsreels was viewed with undiminished interest and the various movements of Netaji sent the crowd into hysterical uproars."
তথ্যচিত্রটি কংগ্রেসের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পান বি সি মেহতা। ব্রিটিশ গোয়েন্দা-বিভাগের চোখে ধুলো দিয়ে, ফিল্ম ক্যানগুলি রেঙ্গুন থেকে বম্বেতে নিয়ে এসে, তুলে দেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের হাতে। প্যাটেল সেই ক্যানগুলি দিল্লিতে নিয়ে আসেন ও কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতারা সেই তথ্যচিত্রটি দেখেন। সিদ্ধান্ত হয়, আরও দৃশ্য ও তথ্য সংযুক্ত করে, সেটি সারা ভারতে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।
কী ছিল আইএনএ-নির্মিত সেই প্রাথমিক তথ্যচিত্রে? আজাদ হিন্দ ফৌজের সৈন্যরা জঙ্গলে ট্রেনিং নিচ্ছেন, রানি ঝাঁসি রেজিমেন্টের ক্রিয়াকলাপ, রেঙ্গুন ও সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন নেতৃত্বের সঙ্গে সুভাষচন্দ্রের আলাপচারিতা, নেতাজির বিভিন্ন বার্তা ও সৈন্যদের উদ্দীপিত করা ইত্যাদির ফুটেজ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, ‘দ্য ইন্ডিয়ান মোশন পিকচার প্রোডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন’-এর সহায়তায়, বল্লভভাই প্যাটেলের পুনঃপ্রযোজনায় (প্রাথমিক প্রযোজক হিসেবে বিজ্ঞাপনে নাম ছিল প্রভিনশিয়াল আজাদ হিন্দ গভর্নমেন্ট-এর) নির্মিত হয় সুভাষের জীবনকেন্দ্রিক একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যচিত্র। তাতে যেমন ভারতে গৃহীত বিভিন্ন ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছিল, সেইসঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় আইএনএ-র ধারণ করা বিভিন্ন দৃশ্য। ক্যামেরাবন্দি করা হয় নতুন দৃশ্যাবলিও। ওই বছরেরই শেষে সম্পূর্ণ হয় তথ্যচিত্রটি। নাম— ‘নেতাজি সুভাষ’। পরিচালক ছোটুভাই দেশাই, ভাষা হিন্দি।
বিমান দুর্ঘটনার পরে সেই খবর মিথ্যে করে নেতাজি দেশে ফিরে এসেছিলেন কি না- তা নিয়ে বিস্তর চর্চা রয়েছে। সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় নেতাজিকে দেখা গিয়েছে বলে বারবার গুজব ছড়িয়েছে। তবে সশরীরে দেশে না ফিরলেও বই থেকে শুরু করে সেলুলয়েডে বরাবর প্রাসঙ্গিক দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored












