বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের তোলা অভিযোগেই সিলমোহর দিলেন দেশের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এস ওয়াই কুরেশি। ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়াকে ‘অযৌক্তিক, স্বেচ্ছাচারী এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কেলেঙ্কারি’ বলে দাগিয়ে দিয়ে তিনি দাবি করলেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি মামলা হওয়া উচিত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই অভিযোগ করেছিলেন, কৃত্রিম মেধা ও প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভোটার ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে এক ‘সুপার এমার্জেন্সি’ তৈরি করা হচ্ছে। এবার এক সাক্ষাৎকারে প্রায় একই সুরে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব সামলানো কুরেশি এবং বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক যোগেন্দ্র যাদব।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রবীণ সাংবাদিক করণ থাপারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কুরেশি দাবি করেন, এসআইআর মূলত একটি কৃত্রিম প্রক্রিয়া, যার আড়ালে দেশের প্রায় ১৫ শতাংশ মানুষের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। বৈধ ভোটারদের নাম গণহারে বাদ দেওয়া চরম অসাংবিধানিক ও বেআইনি পদক্ষেপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব ছিল প্রত্যেক নাগরিকের ভোটাধিকার রক্ষা করা। কিন্তু তা না করে অবাস্তব ও অযৌক্তিক সব অজুহাতে শুধু নাম কাটার কাজই চালিয়ে যাচ্ছে কমিশন দফতর। অথচ যে সমস্ত নাম বিবেচনাধীন রাখা হয়েছিল, সেগুলি ফিরিয়ে আনার কোনও সদিচ্ছা দেখা যায়নি।

কুরেশির স্পষ্ট বক্তব্য, এই প্রক্রিয়ার আসল উদ্দেশ্য হল প্রান্তিক, সংখ্যালঘু ও দুর্বল শ্রেণির ভোটারদের অধিকার কেড়ে নিয়ে বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী সুবিধা পাইয়ে দেওয়া। এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে গোটা বিষয়টি পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্তের ফসল। একই সঙ্গে উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধনের বিতর্কিত পরিসংখ্যানও। অভিযোগ, বাংলায় বিধানসভা ভোটের আগে অতি স্বল্প সময়ে এসআইআর কার্যকর করে এক নির্দিষ্ট শ্রেণির ভোটারকে নিশানা করা হয়েছিল। সেই ছক মেনেই ২০০২ সালের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র তুচ্ছ তথ্যগত অসঙ্গতি দেখিয়ে রাজ্যের প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম একতরফা ভাবে কেটে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২০০২-এর তালিকায় নাম না থাকার অজুহাতে বাদ দেওয়া হয় আরও ৯ লক্ষ ভোটারকে, যাঁরা অতীতে একাধিক বার বাংলায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। দেশের প্রাক্তন শীর্ষ নির্বাচনী কর্তার এমন বিস্ফোরক মন্তব্যে কমিশন ও নির্বাচন সংক্রান্ত সংস্কার নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।