বাংলায় হবে 'বাগেশ্বর ধাম'! অন্তত এমনটাই বাবাজিকে কথা দিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। যদিও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জামানায় বাংলার ত্রিসীমানায় আসার সাহস ছিল না এই জাতীয় বিড়াল তপস্বীদের। প্রশ্ন উঠছে কেন তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ? বেশ কয়েক বছর ধরেই বাবার সম্পত্তি ফুলে ফেঁপে উঠেছে। বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই পশ্চিমবঙ্গে ফের পা রাখলেন বাবা। শুধু তাই নয়, বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্যের ওপরেই প্রশ্ন তুলে দিয়ে ফিরে গেলেন নিজের গন্তব্যে। কিন্তু দেখা গেল, ধর্মীয় বক্তা পণ্ডিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে ‘বাগেশ্বর বাবা’র সম্পত্তি ও আয় নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। সাধু সন্তদের ধর্ম যেখানে ত্যাগ সেখানে বাগেশ্বর বাবার একাউন্ট ভোরে উঠছে সহজেই। শুধু তাই নয়, পরিবারে রয়েছে একাধিক অপরাধের ঘটনা।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য ১৯.৫ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকা। যদিও এই পরিসংখ্যানের কোনও সরকারি হিসাব প্রকাশ্যে নেই। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা ‘কথা’ আয়োজন তাঁর আয়ের অন্যতম উৎস। একটি ‘কথা’-র জন্য আনুমানিক ১ থেকে ১.৫ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক নেওয়া হয় বলেও কিছু রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। সাধারণত এই ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে চলতে পারে।
এদিকে এর মাঝেই উঠে এসেছে বাগেশ্বর বাবার পারিবারিক ইতিহাস। মধ্যপ্রদেশে কৃষককে খুনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন ধর্মীয় নেতা ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে ‘বাগেশ্বর বাবা’র ছোট ভাই শালিগ্রাম গর্গ। ছত্তরপুরের কোদা গ্রামে এক কৃষকের বাড়িতে হামলা এবং গুলি চালানোর অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শালিগ্রামের এক সহযোগীকেও আটক করা হয়েছিল সেই সময়ে। কৃষক মোতিলাল কুশওয়াহার বাড়িতে শালিগ্রাম ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী হামলা চালান। প্রথমে তাঁকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় এবং পরে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। গুরুতর জখম অবস্থায় মোতিলালকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচার করে তাঁর শরীর থেকে গুলি বের করা হয়।
আহত কৃষক সেই সময়ে অভিযোগ করেন জমি দখলের উদ্দেশ্যেই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়েছে।
সেই সময়ে, ঘটনার একটি ভিডিয়ো পুলিশের হাতে আসে যেখানে কয়েকজনকে ঘটনাস্থল থেকে পালাতে দেখা যাচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভিডিয়ো ফুটেজ, আহতের বয়ান এবং চিকিৎসকদের রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজনগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। জানা যায়, শালিগ্রামের বিরুদ্ধে এই প্রথম কোনও ফৌজদারি অভিযোগ নয়। ২০২৩ সালে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা ও আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। ২০২৪ সালেও সাগর জেলায় টোল প্লাজার কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই সময়ে ভাইয়ের গ্রেফতারি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। তাঁর দাবি, কয়েক বছর আগেই নাকি তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে শালিগ্রামের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর কথায়, গোটা বিশ্বই তাঁর পরিবার এবং তিনি দেশ ও ধর্মের সেবায় নিয়োজিত। এদিকে বাড়ছে সম্পত্তি ওদিকে বিপদ বুঝে ভাইকেই অস্বীকার করে বসলেন বাবাজি যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ। অন্যদিকে বাবাজির বাঙালি বিদ্বেষী মন্তব্যে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। ধর্মীয় উৎসবে যাঁরা আমিষ খান, তাঁদের তিনি 'পাখন্ডী' (ভণ্ড) বলে কটাক্ষ করেন তিনি। কংগ্রেসের তরফে ইতিমধ্যেই অভিযোগ, ওই মন্তব্যে বাঙালির আবেগে আঘাত করা হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও নিজস্ব পরম্পরাকেও অপমান করা হয়েছে। এই নিয়ে নেটদুনিয়ায় উঠেছে ঝড়। নেটিজেনদের সাফ দাবি, এই মন্তব্য বাঙালি সমাজ ও তাদের খাদ্যাভ্যাসকে অপমান করার সামিল এবং এর মাধ্যমে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে বিজেপি।
















