কানপুরে ব্যবসায়ী বিনীত মিনোচার খুনের তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়। পুলিশের দাবি, প্রথমে ঘটনাটি বহিরাগত দুষ্কৃতীদের হামলা বলে মনে হলেও তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই সন্দেহের তির ঘুরেছে পরিবারের অন্দরমহলের দিকে। এই ঘটনায় মৃত ব্যবসায়ীর পুত্রবধূ শালুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইন্দিরানগরের অভিজাত আবাসনে শনিবার খুন হন বিনীত। তাঁর দেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমেই খতিয়ে দেখে ডাকাতির সম্ভাবনা। কিন্তু বাড়ি থেকে নগদ টাকা বা মূল্যবান সামগ্রী না খোয়া যাওয়ায় সেই তত্ত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই CCTV ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তের মোড় ঘোরে।

পুলিশের দাবি, ঘটনার রাতে বিনীতের ছেলে সুব্রত, পুত্রবধূ শালু এবং তাঁদের ছয় বছরের সন্তান পার্টিতে যান। তাঁদের বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর CCTV-তে দুই সন্দেহভাজনকে ওই ফ্ল্যাটের দিকে যেতে দেখা যায়। তদন্তকারীদের অনুমান, তাঁরা আগে থেকেই বাড়িতে ঢুকে অপেক্ষা করছিলেন। রাত প্রায় ১০. ৫৮ নাগাদ বিনীত বাড়ি ফেরেন। জানা গিয়েছে, প্রথমে এমনভাবে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল যাতে ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মনে হয়। কিন্তু বিনীত অভিযুক্তদের সামনে পড়ে যাওয়ায় পরিকল্পনা ভেস্তে যায় এবং তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। CCTV-র সূত্র ধরে এক অভিযুক্তকে শনাক্ত করে পুলিশ। তাঁর নাম বিশাল গৌতম। তদন্তকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন বিনীতের বাড়িতে কাজ করেছিলেন তিনি। ফলে বাড়ির ভিতরের বিন্যাস এবং পরিবারের গতিবিধি তাঁর অজানা ছিল না। পুলিশের অভিযোগ, ডুপ্লিকেট চাবি ব্যবহার করে বিশাল তাঁর সহযোগী রাজ কিশোরকে নিয়ে ফ্ল্যাটে ঢুকেছিলেন।

এরপর জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে শালুর নাম। পুলিশের দাবি, বিশাল ও রাজ কিশোরের বয়ানে শালুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। তাঁদের দাবি, অর্থের বিনিময়ে বিনীতকে খুন করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই সূত্রেই শালুকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ১ মে থেকে খুনের দিন পর্যন্ত শালু ও বিশালের মধ্যে ফোন, মেসেজ এবং WhatsApp-এর মাধ্যমে মোট ৩০৯ বার যোগাযোগ হয়েছিল। পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে আদানপ্রদান হওয়া ৪৯টি মুছে দেওয়া মেসেজও পুলিশের নজরে এসেছে। ওই মেসেজগুলির বিষয়বস্তু উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।


পুলিশ আরও অভিযোগ করেছে খুনের জন্য ৬ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়েছিল। তার মধ্যে ২ লক্ষ টাকা খুনের পর এবং বাকি ৪ লক্ষ টাকা পরে দেওয়ার কথা ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বিনীত পরিবারের সদস্যদের উপর কড়া নজর রাখতেন এবং তাঁদের খরচ নিয়ন্ত্রণ করতেন। বাড়িতে CCTV নজরদারি নিয়েও পুত্রবধূর আপত্তি ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। এই পারিবারিক টানাপোড়েনই খুনের ষড়যন্ত্রের সম্ভাব্য কারণ কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে পুরো ঘটনায় শালুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। খুনের নেপথ্যে ঠিক কী কারণ ছিল, কার কতটা ভূমিকা ছিল এবং ডিজিটাল প্রমাণগুলি কী বার্তা দিচ্ছে—সেই উত্তর খুঁজছে কানপুর পুলিশ।