আদালতের নির্দেশই যদি প্রশাসনের কাছে উপেক্ষিত হয়, তা হলে সেই নির্দেশের গুরুত্ব কোথায়? গ্রেটার নয়ডার এক পড়ুয়াকে সিজেপির (CJP) মিছিলে যাওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়ার ঘটনায় কার্যত এই প্রশ্নই তুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার অভিযোগে আইন পড়ুয়ার বিরুদ্ধে এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের (Executive Magistrate) পদক্ষেপের কথা শুনে বুধবার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Supreme Court Chief Justice Surya Kant)। তিনি বলেন, ‘‘আমরা বিস্মিত যে কী ভাবে আমাদের ১ সেপ্টেম্বরের নির্দেশের পর এক জন এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলাশাসক এ ধরনের নোটিশ জারি করতে পারেন?’’
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন: আন্তরিকভাবে স্বাগত: হাই কোর্টের নতুন প্রধান বিচারপতিকে অভিনন্দন মমতার
ঘটনাটি সামনে আসতেই সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের এক্তিয়ার নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। আদালতে আইনজীবী বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য জানান, গৌতমবুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Gautam Buddha University) ২০ বছরের ছাত্র অক্ষত ত্রিপাঠীকে (Akshat Tripathi) গত ৪ সেপ্টেম্বর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র যন্তর মন্তরের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং সহপাঠীদেরও সেখানে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘সরকারবিরোধী প্রচার’-এর অভিযোগও তোলা হয়। নোটিশ জারির পরদিনই অবশ্য সেটি প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘এক জন ম্যাজিস্ট্রেট কী ভাবে এ ধরনের নোটিশ জারি করার সাহস পান?’’
কিন্তু নোটিশ তুলে নেওয়াতেই বিষয়টির ইতি টানতে নারাজ শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি মনে করিয়ে দেন, ১ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে তাঁর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে ২০ থেকে ২৫ জুলাইয়ের বিক্ষোভের ঘটনায় পড়ুয়া বা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না। এমনকি ওই প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে নতুন করে এফআইআর করার ক্ষেত্রেও আদালত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। ফলে সেই নির্দেশের পরেই এক পড়ুয়ার বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটের নোটিশ জারি করা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বেঞ্চ।
ঘটনার কারণ জানতে এবার সরাসরি প্রশাসনের কাছে জবাব চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সংশ্লিষ্ট এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি জেলাশাসকের কাছ থেকেও ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে স্পষ্ট, আদালতের নির্দেশের পরও যদি প্রশাসনিক স্তরে তার বিপরীত কোনও পদক্ষেপ করা হয়, তা কোনও ভাবেই হালকা করে দেখবে না শীর্ষ আদালত। নোটিশ প্রত্যাহার হয়ে গেলেও কেন এমন পদক্ষেপ করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
















