‘ভয় পেয়ে বিচারকের (Judge) চেয়ারে বসে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।’ মুজফ্ফরনগরের (Muzaffarnagar) অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক রবিকুমার দিবাকরের (Ravi Kumar Diwakar) এই মন্তব্য ঘিরেই এখন নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে বিচারব্যবস্থা নিয়ে। মাত্র চার মাসেই ২২ জনকে ফাঁসির সাজা দিয়ে সম্প্রতি শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি। বিচারকের দাবি, একের পর এক গ্যাংস্টার (Gangstar) ও মাফিয়ার (Mafia) তরফে তাঁকে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তাঁর এজলাস থেকে বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলা সরিয়ে নেওয়ার নেপথ্যেও প্রভাবশালী অপরাধচক্রের চাপ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
সোমবার একটি খুনের মামলায় নাদিম (Nadim) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর নিজের ৩৮ পাতার রায়েই এই বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনেন বিচারক দিবাকর। ২০১৮ সালে স্ত্রী শাহজাদিকে (Shahjadi) পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নাদিমকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছে। আর এই রায়ের মধ্যেই বিচারক জানান, তাঁর এজলাস থেকে অন্তত ১০০টি গুরুতর ফৌজদারি মামলা সরে যাওয়ার পর থেকেই হুমকির ঘটনা আরও বেড়েছে।
বিচারপতির দাবি, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তাঁকে বার্তা পাঠানো হয়েছে। মামলা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তিনি যদি সংশ্লিষ্ট গ্যাংস্টারদের বিরুদ্ধে সরব হন কিংবা তাঁদের নিয়ে কোনও মন্তব্য করেন, তা হলে প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে মুজফ্ফরনগর থেকেও সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। তাঁর অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) একাধিক কুখ্যাত অপরাধীর পিছনে রাজনৈতিক মদদ রয়েছে। সেই কারণেই অপরাধীদের প্রভাব শুধু স্থানীয় স্তরে সীমাবদ্ধ নেই, প্রশাসনের উপরতলাতেও পৌঁছে গিয়েছে সেই ছায়া।
তবে এই পরিস্থিতিতেও নিজের অবস্থান বদলাতে নারাজ বিচারক। তাঁর কথায়, মাফিয়া বা গ্যাংস্টারদের ভয় পেতে শুরু করলে বিচারকের পদে থাকারই কোনও অর্থ থাকে না। বরং সেই পরিস্থিতিতে অবসর নেওয়াই শ্রেয়। নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি। দিবাকরের দাবি, তাঁর দু’জন নিরাপত্তারক্ষীকেও ইতিমধ্যে বদলে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিজি-কে চিঠিও দিয়েছেন তিনি।
বিচারপতি দিবাকরকে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০০৯ সালে উত্তরপ্রদেশ বিচার বিভাগে যোগ দেওয়ার পর সুলতানপুর, বদাউন, বারাণসী ও বরেলির বিভিন্ন আদালতে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ২০২৫ সাল থেকে তিনি মুজফ্ফরনগরে কর্মরত। ২০২২ সালে জ্ঞানবাপী মসজিদ (Gyanvapi Mosque) চত্বরে ভিডিয়োগ্রাফিক সমীক্ষার নির্দেশ দেওয়ার পর জাতীয় স্তরে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। ২০২৪ সালে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে (Yogi Adityanath) প্লেটোর ‘ফিলোসফার কিং’-এর (Plato's Philosopher King) সঙ্গে তুলনা করেও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন এই বিচারক।
এরই মধ্যে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের পরিসংখ্যান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। প্রকাশ্যে আসা তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে তাঁর এজলাস থেকে ১০টি মামলায় মোট ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। সেই পরিসংখ্যান সামনে আসার পরই অগস্টে খুন-সহ গুরুতর অপরাধের প্রায় ১০০টি মামলা তাঁর আদালত থেকে বিচারক বীরেন্দ্রকুমার সিংয়ের ( Birendra Kumar Singh) এজলাসে সরিয়ে দেওয়া হয়।
















