দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ভারতরত্ন ( Bharat Ratna) রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। বিজ্ঞানের জগতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিও রয়েছে। অথচ ভোটার তালিকায় নামের বানানে সামান্য অমিলের জেরে এবার বিশেষ শুনানিতে হাজির হতে বলা হল ৯২ বছরের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অধ্যাপক সি এন আর রাওকে (CNR Rao)। কর্নাটকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় তাঁর নামের ক্ষেত্রে ‘self-name mismatch’ ধরা পড়েছে বলে খবর।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ২০০২ সালের পুরনো ভোটার তালিকায় বিজ্ঞানীর নাম নথিভুক্ত ছিল ‘Prof CNR Rao’ হিসেবে। কিন্তু বর্তমান তালিকায় সেই নামের আগে ‘Prof’-এর বানানে অতিরিক্ত একটি ‘f’ যুক্ত হয়ে হয়েছে ‘Proff CNR Rao’। পুরনো ও বর্তমান তালিকার তথ্যের মধ্যে এই অমিলই SIR-এর সময় চিহ্নিত হয়েছে। সেই কারণেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে তাঁকে শুনানিতে হাজির হতে বলা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
আরও পড়ুন: লোকসভার স্পিকার স্বস্তি দিলেও সুপ্রিম নোটিশে প্রবল চাপে তৃণমূলত্যাগী ২০ সাংসদ
তবে SIR প্রক্রিয়ায় নামের অমিল বা অন্যান্য অসঙ্গতির ক্ষেত্রে নোটিশ জারি হওয়া নতুন নয়। এরআগেও কর্নাটকে পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তথ্যের মিল না পাওয়া, ‘no mapping’ বা অন্য কোনও anomaly চিহ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নথি যাচাইয়ের জন্য ডাকা হয়েছে। নির্বাচন আধিকারিকদের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪৩.৮১ লক্ষ নোটিস তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৭.৩১ লক্ষ নোটিস ভোটারদের কাছে পৌঁছেছে। ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্নাটকে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪.৪৬ কোটি।
উল্লেখ্য, সিএনআর রাও অবশ্য সাধারণ কোনও নাম নন। ১৯৩৪ সালে বেঙ্গালুরুতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। রসায়ন, বিশেষত সলিড-স্টেট মেটেরিয়াল, ন্যানোমেটেরিয়াল এবং স্ট্রাকচারাল কেমিস্ট্রিতে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত। ১৯৭৬ সালে IISc-তে তিনি সলিড স্টেট অ্যান্ড স্ট্রাকচারাল কেমিস্ট্রি ইউনিট প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তিনি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের ডিরেক্টর ছিলেন। বিজ্ঞানের পাশাপাশি দেশের বিজ্ঞাননীতি তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তাঁর। ইন্দিরা গান্ধীর সময় থেকে কেন্দ্রের বিজ্ঞানবিষয়ক পরামর্শদাতা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে রাজীব গান্ধী, এইচ ডি দেবেগৌড়া, আই কে গুজরাল এবং মনমোহন সিংহের আমলেও বিজ্ঞান সংক্রান্ত পরামর্শদাতা পরিষদের সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
১,৬০০-রও বেশি গবেষণাপত্র এবং একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত সিএনআর রাওকে পদ্মশ্রী ও পদ্মবিভূষণের পাশাপাশি ২০১৪ সালে ভারতরত্নে সম্মানিত করা হয়। ফলে তাঁর মতো বর্ষীয়ান বিজ্ঞানীর নামের ক্ষেত্রে মাত্র একটি অতিরিক্ত ‘f’ অক্ষরের কারণে SIR-এর শুনানিতে হাজিরার প্রসঙ্গ সামনে আসতেই নির্বাচন কমিশনের যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে পদ্মশ্রীপ্রাপক সমাজকর্মী হরেকালা হাজাব্বার ক্ষেত্রেও নামের অসঙ্গতি ধরা পড়েছিল। পরে আধিকারিকরা বিষয়টি যাচাই করে সংশোধন করেন এবং তাঁকে দফতরে ডাকার পরিবর্তে বাড়িতে গিয়ে সমস্যার সমাধান করা হয়েছিল। সিএনআর রাওয়ের ক্ষেত্রেও শেষ পর্যন্ত একই ভাবে নথি যাচাই করে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলা হয় কি না, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কমিশনের তরফ থেকে মেলেনি কোন তথ্য।
















