লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা স্বস্তি দিলেও সুপ্রিম নির্দেশে প্রবল চাপে তৃণমূলত্যাগী ২০ সাংসদ। তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে জিতে বাংলার পালাবদলের পরেই 'ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্‌স পার্টি অফ ইন্ডিয়া' (NCPI)-তে যোগ দেওয়া সাংসদের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। কিন্তু তার পরেও লোকসভার স্পিকারের কাছে বায়না করে সময় বাড়াচ্ছিলেন ২০ সাংসদ। এবার তাঁদের নোটিশ দিল শীর্ষ আদালত।  ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেই নোটিশের জবাব দিতে হবে।

বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election) রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একে একে মমতা শিবির ত্যাগ করেন ২০ লোকসভা সাংসদ (Lok Sabha)। তালিকায় আছেন, কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghoshdasti), শতাব্দী রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, দীপক অধিকারী (দেব), সায়নী ঘোষ, পার্থ ভৌমিক, জুন মালিয়া, ইউসুফ পাঠান, জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, অরূপ চক্রবর্তী, বাপি হালদার, মোহাম্মদ আবু তাহের খান, কালীপদ সরেন খেরওয়াল, অসিত কুমার মাল, মিতালী বাগ, খলিলুর রহমান, মালা রায় এবং শর্মিলা সরকার। দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে বাঁচতে তাঁরা যোগ দেন অখ্যাত NCPI দলে। কিন্তু সেই দলকে এখনও স্বীকৃতি দেননি ওম বিড়লা (Om Birla)। ফলে কাকলিরা অধিবেশন বক্তব্য রাখলে সংসদ টিভি-তে তাঁদের নামের পাশে তৃণমূল সাংসদ লেখা হচ্ছে। অথচ তাঁদের দাবি মেনে অধিবেশন কক্ষে তৃণমূল সাংসদদের বসার স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ২০ সাংসদের বিষয়ে লোকসভার স্পিকারের অবস্থান জানতে চেয়ে চিঠি দেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক। প্রায় আড়াই মাস অপেক্ষা করে কোনও উত্তর না পেয়ে তিনি শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন। গত ২৫ অগাস্ট এই বিষয়ে জানতে চেয়ে নোটিশ দেয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ। পরিস্থিতি সামল দিতে আসরে নামেন সলিসিটের জেনারেল তুষার মেহেতা। জানান, ২০ সাংসদকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আইন বাঁচাতে সেই দিনই দলবদলু সাংসদের নোটিশ দেন লোকসভার স্পিকার। 

কিন্তু নির্দেশ সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও জবাব না দিয়ে আরও সময় চান কাকলি-সুদীপরা। সেই আবেদন মঞ্জুর করেন ওম বিড়লা।  তাঁদের জবাব দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে ২২ সেপ্টেম্বর করেন তিনি। এর পরেই এদিন সরাসরি তৃণমূলত্যাগী ২০ সাংসদকে নিজেদের অবস্থান জানাতে নোটিশ পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতে মামলার পরবর্তী শুনানির ১৮ সেপ্টেম্বর। তার আগে জবাব দিতে হবে দলবদলুদের।