ব্রিকস ( BRICS) নিয়ে কংগ্রেসের ( Congress) অন্দরেই এবার সামনে এল ভিন্ন সুর। এক দিন আগেই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম ( P. Chidambaram) প্রশ্ন তুলেছিলেন, সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলনগুলি থেকে ভারতের আদৌ কতটা ‘দৃশ্যমান লাভ’ হয়েছে। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দলীয় সাংসদ শশী থারুরের (Shashi Tharoor) বক্তব্যে উঠে এল উল্টো সুর। দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের আগে থারুরের দাবি, এই মঞ্চ শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতার জায়গা নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের কূটনৈতিক প্রভাব এবং নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতারও।
আরও পড়ুন: ক্ষমতায় এসে চিন্ময়কৃষ্ণকে ভুলেছে বিজেপি! মুখ খুললেন কুণাল
ব্রিকসকে গ্লোবাল সাউথের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন থারুর। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বের একশোরও বেশি দেশ গ্লোবাল সাউথের অন্তর্ভুক্ত। তার মধ্যে ব্রিকসের ১১টি সদস্য দেশ বিশ্বের জনসংখ্যার বড় অংশকে প্রতিনিধিত্ব করে এবং সম্মিলিতভাবে বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৪১ শতাংশ জিডিপির সঙ্গে যুক্ত। ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই গোষ্ঠীর গুরুত্ব কোনওভাবেই খাটো করে দেখার নয় বলে মনে করেন তিনি।
দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজনকেও ভারতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন থারুর। তাঁর মতে, একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানকে একই মঞ্চে নিয়ে আসার ক্ষমতা ভারতের কূটনৈতিক গুরুত্বকে তুলে ধরে। শুধু সদস্য দেশ নয়, পর্যবেক্ষক হিসেবে অন্যান্য দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিও ভারতের ‘কূটনৈতিক সমন্বয় ক্ষমতা’র পরিচায়ক বলে মনে করেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এই ধরনের আয়োজনের নিজস্ব মর্যাদা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন প্রাক্তন রাষ্ট্রসঙ্ঘের কূটনীতিক।
তবে ব্রিকস নিয়ে শুধুই ইতিবাচক ছবি আঁকেননি থারুর। তাঁর মতে, বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ব্রিকস ভারতের জন্য পুরোপুরি সুবিধাজনক নয়। সদস্য দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য বাড়লেও ভারতের ক্ষেত্রে ভারসাম্যের সমস্যা রয়েছে। ব্রিকস দেশগুলিতে ভারতের রফতানি কমেছে, বিপরীতে আমদানি বেড়েছে। ফলে বাণিজ্যিক দিক থেকে এই গোষ্ঠী থেকে ভারতের লাভ-ক্ষতির হিসাব একেবারে একপেশে নয় বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
থারুরের এই মন্তব্য সামনে আসার আগে বুধবার ব্রিকস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন পি চিদম্বরম। তাঁর বক্তব্য ছিল, গত দুই-তিনটি ব্রিকস সম্মেলন থেকে ভারতের কী বাস্তব বা স্পষ্ট ফলাফল এসেছে, তা তিনি দেখতে পাননি। ব্রিকসের পাশাপাশি সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, জি২০ এবং কোয়াডের মতো একাধিক বহুপাক্ষিক মঞ্চে ভারত যুক্ত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সব মঞ্চ থেকে দেশের নির্দিষ্ট কী লাভ হয়েছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা। এরই মধ্যে থারুরের বক্তব্যে ব্রিকসের গুরুত্বের পাশাপাশি সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গও এল প্রকাশ্যে।
















