দেশের নিরাপদ শহরগুলির তালিকায় আহমেদাবাদের (Ahmedabad) নাম থাকলেও গুজরাত সরকারের বিধানসভায় পেশ করা সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে উঠে এল ভিন্ন ছবি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত আহমেদাবাদ ও সুরত—এই দুই শহরে মোট ৬২০টি ধর্ষণের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ, দুই শহর মিলিয়ে গড়ে প্রতিদিন প্রায় দু’টি করে ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়েছে। যদিও এটি সরকারি নথি অনুযায়ী, এর বাইরেও ঠিক কত পরিমান ঘটনা আছে সেই বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। আঙ্কলাভের কংগ্রেস বিধায়ক অমিত চাভড়ার (Anklav Congress MLA Amit Chavda) প্রশ্নের জবাবে বিধানসভায় এই তথ্য জানান গুজরাতের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সঙ্ঘভি (Gujarat Deputy Chief Minister and Home Minister Harsh Sanghvi)। তাঁর পেশ করা পরিসংখ্যানে ধর্ষণের পাশাপাশি চুরি, ডাকাতি, খুন, শ্লীলতাহানি, অপহরণ, তোলাবাজি, মদ নিষেধাজ্ঞা, জুয়া এবং সাইবার অপরাধের তথ্যও রয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক বছরে আহমেদাবাদে ২,৮৬০টি চুরির মামলা দায়ের হয়েছে। ডাকাতির মামলা ৫৬টি, ধর্ষণ ২৮৯টি এবং খুনের মামলা ৮৩টি। এছাড়া শ্লীলতাহানির ১১৭টি, অপহরণের ২২৫টি এবং তোলাবাজির ১০টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। মদ নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আইনে মামলার সংখ্যা ১২,৮৮৯। জুয়ার ১,৪৯৫টি এবং সাইবার প্রতারণার ৪৯৫টি মামলাও হয়েছে। সুরতের ক্ষেত্রে ধর্ষণের মামলা আরও বেশি। সেখানে ৩৩১টি ধর্ষণের পাশাপাশি ১,২৭৫টি চুরি, ৫৪টি ডাকাতি এবং ১১৫টি খুনের মামলা দায়ের হয়েছে। শ্লীলতাহানির মামলা ১৩৪টি, অপহরণ ২৯৭টি এবং তোলাবাজির মামলা ১০৮টি। এছাড়া মদ নিষেধাজ্ঞা আইনে ৮,৫৫৬টি, জুয়ার ১,১৩৭টি এবং সাইবার প্রতারণার ৩৩৩টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে মোট ৩৮,৮৭৭ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৭২৫ জন অভিযুক্তকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের সন্ধানে আত্মীয়, বন্ধু ও পরিচিতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের পাশাপাশি গোপন সূত্র এবং প্রযুক্তিগত নজরদারি ব্যবহার করছে পুলিশ।
সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের ব্যাঙ্কের KYC তথ্য, অ্যাকাউন্টের বিবরণ, লেনদেনের নথি, মোবাইল SDR ও CDR এবং IP অ্যাড্রেস খতিয়ে দেখছেন। বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে Look-Out Circular জারি করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে, ২০২৫ সালের Numbeo Crime Index-এ আহমেদাবাদকে ভারতের সবচেয়ে নিরাপদ শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। শহরটির Safety Score ছিল ৬৮.৬। যদিও এই র্যাঙ্কিং সরকারি অপরাধের নথির উপর ভিত্তি করে নয়; মূলত মানুষের দেওয়া মতামত এবং অপরাধ ও নিরাপত্তা সম্পর্কে তাঁদের ধারণার ভিত্তিতেই এই সূচক তৈরি করা হয়। ফলে নিরাপত্তার সূচকে আহমেদাবাদের সাফল্যের পাশাপাশি সরকারি নথিতে উঠে আসা অপরাধের পরিসংখ্যানও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ধর্ষণের ক্ষেত্রে আহমেদাবাদের তুলনায় সুরতে মামলা বেশি হলেও চুরি, মদ নিষেধাজ্ঞা এবং সাইবার প্রতারণার মতো অপরাধে আহমেদাবাদের পরিসংখ্যান তুলনামূলকভাবে বেশি।
















