ভারত-চিন সম্পর্কের (India-China Relations) টানাপোড়েন কাটিয়ে সরাসরি যোগাযোগ ফেরানোর আবহেই দিল্লি-গুয়াংঝু (Delhi-Guangzhou) আকাশপথে বড় ঘোষণা। ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার দিল্লিতে পৌঁছেছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Chinese President Xi Jinping)। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Prime Minister Narendra Modi) সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা। তার মধ্যেই ছ’বছর বন্ধ থাকার পর দিল্লি-গুয়াংঝু সরাসরি বিমান পরিষেবা ফের চালুর ঘোষণা করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে এই রুটে বিমান চলবে। ফলে শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের আবহে ভারত-চিনের সরাসরি যোগাযোগ ফের স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার আরও একটি ইঙ্গিত মিলল।
নতুন সূচি অনুযায়ী, দিল্লি থেকে বিমানটি রাত ৮টা ২০ মিনিটে ছাড়বে এবং পরের দিন ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে গুয়াংঝু পৌঁছবে। গুয়াংঝু থেকে দিল্লির ফিরতি বিমান ছাড়বে বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে। দক্ষিণ এশিয়ায় আটটি রুটে সপ্তাহে ১০০-র বেশি উড়ান চালানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে চিনা বিমান সংস্থাটি। ফলে শুধু একটি রুট চালু হওয়া নয়, ভারত-সহ দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে চিনের বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনারও ইঙ্গিত মিলছে।
দিল্লি–গুয়াংঝু পরিষেবা ফেরার আগে চলতি বছরেই ভারত ও চিনের মধ্যে একাধিক সরাসরি উড়ান ফিরেছে। ১৮ এপ্রিল China Eastern কুনমিং–কলকাতা রুটে পরিষেবা পুনরায় শুরু করে। ৩০ মার্চ IndiGo কলকাতা–সাংহাই দৈনিক উড়ান চালু করে। ফেব্রুয়ারিতে Air India এবং এপ্রিলে Air China-ও ভারত-চিন সরাসরি যোগাযোগ পুনরুদ্ধার করেছে। ফলে প্রায় ছ’বছরের বিচ্ছিন্নতার পর ধাপে ধাপে ফের সচল হচ্ছে দুই দেশের আকাশপথ।
এই পরিবর্তনের আবহেই বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফর। BRICS সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার দিল্লিতে পৌঁছেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও হওয়ার কথা। ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়ে চিনা রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং (Chinese Ambassador Xu Feihong) জানিয়েছেন, ‘‘জিনপিং ও মোদির কৌশলগত নির্দেশনায় চিন, ভারত মিলেমিশে কাজ করবে। দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাব আমরা। দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ এবং সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।’’
লাদাখের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে দীর্ঘ টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তার পর থেকেই সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ছেদ পড়েছিল। এখন একের পর এক বিমান পরিষেবা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি শীর্ষ স্তরে আলোচনাও শুরু হয়েছে। মতপার্থক্য থাকলেও তা সামলে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তাই দিয়েছে বেজিং (Beijing)। চিনা রাষ্ট্রদূতের কথায়, ‘‘মতপার্থক্যগুলি যথাযথ ভাবে আমরা সামাল দেব। এ ভাবেই চিন এবং ভারতের মধ্যে প্রতিবেশীসুলভ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে। একে অপরের সাফল্যে আমরা সহযোগী হয়ে উঠব।’’
















