নেপালে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর ১৭ দিন পার হয়ে গেলেও এখনও খোঁজ মেলেনি প্রয়াত রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের পুত্রবধূ তথা শুভ্রাংশ রায়ের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের। কাঁচরাপাড়া রায় পরিবার উৎকণ্ঠ এবং আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। একই সঙ্গে অপেক্ষা করছে শর্মিষ্ঠার একটা ফোনের। এরই মধ্যে কিছুটা যেন আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন শুভ্রাংশু রায়।

 

 গত ২১ শে আগস্ট হাওড়া একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে কৈলাস মানস সরোবরের ভ্রমণের জন্য রওনা দিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। ২৬ শে আগস্ট সকালের রসুয়া চিন তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় হড়পা বান আছডে পড়ার পর থেকে শর্মিষ্ঠার মোবাইল বন্ধ হয়ে যায় এবং তাঁর সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর ১৭ দিন কেটে গেছে কিন্তু কোন রকম খোঁজ পাওয়া  যায়নি শর্মিষ্ঠার। যদিও এরই মধ্যে রায় পরিবারের আশা চিনে তোনও নিরাপদ আশ্রয় বা সামরিক শিবিরে পর্যটকদের সামনে সুরক্ষিত আছেন শর্মিষ্ঠা। এই বিষয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন শুভ্রাংশু।

 চিনের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিপর্যয় ঠিক আগের মুহূর্তে বেশ কিছু পর্যটককে সুরক্ষিত জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যায় চিনের সীমান্ত কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে থাকতে পারেন  শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়সহ বাংলার ৩২ জন পর্যটক। এই পরিস্থিতিতে শুভ্রাংশু বিদেশ মন্ত্রককে আবেদন করেছেন, চিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করার। 

নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদেশ একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন মুকুল পুত্র।  সেখানে তুলে ধরা হয়েছে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের সাংবাদিক সম্মেলনের একটি ক্লিপ। সেই সঙ্গে শুভ্রাংশ লিখেছেন করজোড়ে এবং আশাবাদী হৃদয়ে আমরা ৫০০ জনেরও বেশি আটকে পরা ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য এই ভিডিওটি শেয়ার করছি। আমরা ভারত সরকারকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি এই রিপোর্টগুলি যাচাই করে আমাদের প্রিজনের বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানান কারণ আমরা আশা করছি এখনও পর্যন্ত দুর্গত এলাকায় আটকে আছেন অনেক মানুষ। তারা উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন। 

 

শুভ্রাংশু রায় আশা করছেন চীনে আটকে পড়া ভারতীয়দের মধ্যে আছেন তাঁর স্ত্রী শর্মিষ্ঠা। কারণ  সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে তার নেটওয়ার্ক অকেজো হয়ে যায়। নিরাপত্তাজনিত বিধি নিষেধের জন্য আটকে থাকা পর্যটক পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না ।আপাতত আশা আশঙ্কা দোলাচলে এই দিন কাটছে কাঁচরাপাড়ার রায় পরিবারের।আপাতত তারা তাকিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের দিকে।