টানা বৃষ্টি-বন্যা-ধসের খবর মিলছে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। তারমধ্যে দেশের শয়ে শয়ে জেলায় বৃষ্টির (Rainfall) ঘাটতি। বৃষ্টির ঘাটতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশে। এবং সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে (West Benngal) পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে।

দেশের মোট ৭৯২টি জেলার ৩২৮টিতেই জুন মাস থেকে এখনও পর্যন্ত বৃষ্টির (Rainfall) ঘাটতি আছে। এর মধ্যে ১৫টি জেলায় ঘাটতি অনেকটাই বেশি।

আরও পড়ুন: মাহেশে মমতার সভা আটকাতে অনৈতিক কাজ জগন্নাথ জিউ ট্রাস্টি বোর্ডের, বিস্ফোরক কল্যাণ

আবহাওয়া দফতরের পরিসংখ্যান বলছে, অন্ধ্রপ্রদেশের ২৮টি জেলাতেই বৃষ্টির ঘাটতি হয়েছে। কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গনা, গুজরাত, বিহার, পাঞ্জাব প্রভৃতি রাজ্যের অধিকাংশ জেলায় বর্ষাকালীন বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। সর্বাধিক ৩২টি জেলায় ঘাটতি আছে তামিলনাড়ুতে। কর্ণাটকে ২৭টি, বিহারে ২৮টি, তেলেঙ্গানায় ২২টি, গুজরাতে ১৮টি, রাজস্থান ও পাঞ্জাবে ১৯টি করে জেলায় বৃষ্টি কম হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি থাকা জেলা মাত্র তিনটি—দুই দিনাজপুর ও কালিম্পং। তবে এই তিন জেলায় মোট বৃষ্টির পরিমাণ বেশি।  দীর্ঘকালীন গড়ের নিরিখে যেহেতু বৃষ্টি ঘাটতির মাপকাঠি নির্ধারিত হয়, তাই এই তিন জেলা ওই তালিকায় পড়ে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গে সার্বিকভাবে গড় বৃষ্টির পরিমাণ বেশি। এদিকে অসমের ৩৫টির মধ্যে ১১ টি জেলায় বৃষ্টির ঘাটতি আছে

আবহাওয়াগতভাবে দীর্ঘকালীন গড়ের থেকে ১৯ শতাংশ কম বা বেশি বৃষ্টি হলে তা স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। ৬০ থেকে ৯৯ শতাংশ কম হলে তা ‘বেশি ঘাটতি’ হিসাবে চিহ্নিত হয়।

 দেশে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ৯৪টি জেলায়। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলা আছে। সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বর্ষার বৃষ্টির হিসাব করা হয়। ফলে এই পরিস্থিতির কিছুটা এদিক-ওদিক হতে পারে। চলতি মাসেই উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে বর্ষার বিদায়ের প্রক্রিয়া সাধারণত শুরু হয়।

এদিকে আজ সোমবার ও আগামিকাল মঙ্গলবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, উত্তর বিদর্ভ এবং সংলগ্ন মধ্যপ্রদেশের উপরের  নিম্নচাপটি দক্ষিণ-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও উত্তর  বিদর্ভের উপর সরে গিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত ঘূর্ণাবর্তটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭.৬ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এটি দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে হেলে অবস্থান করছে। এটি আরও শক্তিশালী হয়ে পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব রাজস্থান ও উত্তর গুজরাতের উপর দিয়ে অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। 

আরও পড়ুন: ২৪০ যাত্রী নিয়ে মাঝসমুদ্রে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ আস্ত জাহাজ, ইন্দোনেশিয়ায় জোর তৎপরতা

অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগরের উপর মৌসুমি অক্ষরেখা বেশ সক্রিয়। এই গড় সমুদ্রপৃষ্ঠ অক্ষরেখাটি জয়সলমীর, কোটা, নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল, রাজনন্দগাঁও, ভবানীপট্টনা হয়ে পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এটি বায়ুমণ্ডলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১.৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।