পুরুলিয়া-বলরামপুর রাস্তায় নাকা চেকিং চলাকালীন এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। চলন্ত মোটরবাইকের পিছনে বাঁধা একটি সন্দেহজনক বস্তা খুলতেই ভিতর থেকে উদ্ধার হয় এক তরুণীর রক্তাক্ত দেহ। ঘটনায় চালক অমিতকুমার মাহাতোকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও সন্দেহের বশেই নিজের প্রেমিকাকে খুন করে প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহ পাচারের চেষ্টা করছিল ওই যুবক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত তখন প্রায় দেড়টা। পুরুলিয়ার দিক থেকে বলরামপুরের দিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসছিল একটি মোটরবাইক। নাকা তল্লাশির সময় বাইকের পিছনে চাপানো বড় বস্তাটি দেখে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের সন্দেহ হয়। গাড়িটি থামিয়ে চালক অমিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই সে অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করে। এর পরই পুলিশ কর্মীরা বস্তাটি খুলতেই চমকে ওঠেন। দেখা যায়, তার মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় নিথর হয়ে পড়ে রয়েছেন এক তরুণী।আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় বাঁশগড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা ওই তরুণীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে অপরাধের কথা স্বীকার করেছে অভিযুক্ত অমিত। পুলিশ সূত্রে খবর, বেশ কিছু দিন ধরেই প্রেমিকার সঙ্গে অন্য কারও সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করছিল সে। এই ত্রিকোণ প্রেমের সন্দেহের জেরেই দু'জনের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করে। অভিযোগ, শনিবার তরুণীকে নিজের মেসে ডেকে পাঠায় অমিত। সেখানে দু'জনের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। তার পরই ধারালো অস্ত্র দিয়ে তরুণীর উপর হামলা চালায় সে। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। এর পর তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করতে দেহটি বস্তাবন্দি করে নির্জন কোনো জায়গায় ফেলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাইকে তুলে রওনা দিয়েছিল যুবক।
মৃত্যুর আগে তরুণীর উপর কোনো শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও আঘাতের তীব্রতা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রবিবার ধৃতকে পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে নয় দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কারও মদত ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা
















