নতুন পুজো, আর শুরুতেই ‘টেক্কা’র ডাক! পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কের (Allen Park) প্রথম দুর্গাপুজো (Durga Puja) ঘিরে জমে উঠল মধ্য কলকাতার পুজোর লড়াই। মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হওয়ার আগেই সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের (Santosh Mitra Square) পুজোকে নিশানা করলেন কলকাতা সনাতনী সঙ্ঘের সভাপতি শঙ্কুদেব পণ্ডা (Shankudeb Panda)। পাল্টা জবাবও এসেছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের পৃষ্ঠপোষক তথা বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের (Sajal Ghosh) কাছ থেকে।
আরও পড়ুন: বিদ্যাধরীতে বেআইনি বালি তোলার অভিযোগ, পুলিশের সামনে দিয়েই নৌকা উধাও
পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্ক সাধারণত বড়দিনের উৎসবের জন্যই পরিচিত। সেই অ্যালেন পার্কেই এ বছর হচ্ছে শারদোৎসবের আয়োজন। উদ্যোক্তা কলকাতা সনাতনী সঙ্ঘ। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই চোখে পড়ছে তাদের প্রচারের হোর্ডিং, ‘কে আসছে?’
সঙ্ঘের সম্পাদক নবীন মিশ্র (Nabin Mishra)। তিনি ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবেও কাজ করেছিলেন। নবীনের বক্তব্য, এর আগে একাধিক বার পুজোর অনুমতি চেয়েও পাওয়া যায়নি। এ বার পরিস্থিতি বদলেছে। তবে নতুন পুজোর সবচেয়ে বড় চমক অন্য জায়গায়। প্রথম বছরেই কলকাতার অন্যতম আলোচিত পুজোগুলির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
আরও পড়ুন: দিল্লি ঘোষণাপত্র থেকে শুরু করে চিনের সঙ্গে সম্পর্কে,নজরে ব্রিকস থেকে ভারতের প্রাপ্তি
অ্যালেন পার্ক থেকে সবচেয়ে কাছের বড় পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার। তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিতে গিয়ে সজল ঘোষের পুজোকেই সরাসরি নিশানা করেছেন শঙ্কুদেব। তাঁর দাবি, সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের পুজো মূলত থিম, আলো এবং নানা আকর্ষণের উপর দাঁড়িয়ে। এমনকি ভিড় বেশি দেখানোর জন্য মণ্ডপের প্রবেশপথ ছোট করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাঁর। শঙ্কুর কথায়, সজল ঘোষের পুজো ‘ঝুলন’-এর মতো।
১৬ সেপ্টেম্বর ভূমিপুজোর দিনই অ্যালেন পার্কের পুজোর থিম সং প্রকাশিত হবে। শঙ্কুর বার্তা, অ্যালেন পার্কের পুজো শুধু সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার নয়, কলকাতার যে কোনও পুজোকেই চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা রাখে। শঙ্কুর মন্তব্য অবশ্য বিনা জবাবে রাখেননি সজল ঘোষ। পাল্টা আক্রমণে সজল বলেন, ‘‘হেলে ধরতে পারে না, কেউটে ধরতে এসেছে! কুঁজোরও তো ইচ্ছে হয় চিৎ হয়ে শুতে!’’
শঙ্কুদেবকে খোঁচা মেরে সজল বলেন, শঙ্কু আদতে ওড়িশার না বাংলার, তা বোঝা দায়। অ্যালেন পার্কের অবস্থান নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি সজল। সজলের কথায়, পার্ক স্ট্রিটের পরিচিতি মূলত খাবারদাবার এবং পানীয়ের জন্য। সেই জায়গায় নতুন পুজো কতটা ভিড় টানতে পারে, তা নিয়েই কার্যত সংশয় রয়েছে। এমনকি সন্ধ্যায় মণ্ডপে প্রদীপ জ্বালানোর লোক পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও ব্যঙ্গ করেছেন সজল। ভিড় না হলে প্রয়োজনে লোক পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও করতে পারেন সজল।
প্রথম বছরেই দুই পক্ষের এমন বাকযুদ্ধকে ঘিরে মধ্য কলকাতার পুজোর প্রতিযোগিতা যে জমে উঠছে, তা বলাই যায়। এবার মণ্ডপ তৈরি হলে কথার লড়াই কতটা বাস্তব প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বদলায়, নজর থাকবে সেদিকেই।
















