সংসদে জোট বদলের পর নিজের বিধানসভা এলাকায় ফিরতেই তীব্র বিক্ষোভের মুখে কোচবিহারের সিতাইয়ের NCPI সাংসদ জগদীশ বর্মা বাসুনিয়া। রবিবার সকালে পুলিশি নিরাপত্তায় সিতাইয়ের বাড়িতে ফেরেন তিনি। তাঁকে ঘিরে স্থানীয়দের একাংশের বিক্ষোভের পাশাপাশি সিতাই বাজারে তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাঙচুর ও আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ক্ষমতায় থাকার সময় জগদীশের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এখন দল বদলে তিনি ফের এলাকায় এসে পরিস্থিতি অশান্ত করছেন।
এদিন বিক্ষোভকারীদের নিশানায় ছিলেন জগদীশ। তাঁর বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে 'দূর হটো, দূর হটো', 'জগদীশের চামড়া,তুলে দেব আমরা' স্লোগান দেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে, তৃণমূলে থাকার সময় ওই পার্টি অফিস থেকেই জগদীশ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতেন। সেই অফিসেই আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। এক বিক্ষোভকারী অশোক বর্মনের দাবি, "সিতাইবাসীর পক্ষ থেকে বলছি, জগদীশ বাসুনিয়া এত দুর্নীতি করেছে...একবার বামফ্রন্ট, একবার তৃণমূল, একবার NCPI। দলগত ভাবে যার কোনও ঠিক-ঠিকানা নেই, সে এক নম্বরের ক্ষমতালোভী। সিতাই বিধানসভার সাধারণ মানুষের টাকা লুঠ করে জ্বালিয়ে খেয়েছে। আবার সিতাইয়ে এসেছে যাতে শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করা যায়।"
বিক্ষোভের জবাবে নিজের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দেন জগদীশ। তাঁর বক্তব্য, তিনি এখন আর তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি নন, NCPI-এর সদস্য। তৃণমূলের পার্টি অফিসে আগুন লাগানোর ঘটনার সঙ্গেও তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন তিনি। জগদীশ বলেন, দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে NDA-র শরিকদের নিয়মিত যোগাযোগ ও বৈঠক হচ্ছে। ফলে তাঁকে এখনও তৃণমূলের লোক হিসেবে দেখেই যে বিক্ষোভ হচ্ছে, তা ভুল বলেই দাবি তাঁর।
ভোটের ফল প্রকাশের পর দীর্ঘদিন সিতাইয়ের বাইরে ছিলেন জগদীশ। এর আগে ১১ অগাস্ট এলাকায় ফেরার চেষ্টা করেও বিক্ষোভের জেরে তাঁকে ফিরে যেতে হয়েছিল বলে দাবি। অতীতে, ২০১৯ সালে কোচবিহারে বিজেপির জয়ের পরও সিতাই ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে এবং তাঁর বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল। এবারও তার ব্যাতিক্রম হল না। এলাকায় ফিরতেই তৃণমূলের পার্টি অফিসে আগুন এবং তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভে নতুন করে উত্তপ্ত হল সিতাই।
















