মাহেশে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বিষয়টি গড়িয়েছে আদালতেও।এরইমধ্যে মাহেশ জগন্নাথ জিউ ট্রাস্টি বোর্ডের বিরুদ্ধো বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
শানপিড়ির মাঠে কোনও রাজনৈতিক সভা করা যাবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাহেশ জগন্নাথ জিউ ট্রাস্টি বোর্ড। এই সিদ্ধান্ত ৯ জুলাই নেওয়া হয়েছিল বলে ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, কোর্টে স্থগিতাদেশের যে আবেদন হলফনামায় ট্রাস্টি বোর্ডের তরফ থেকে করা হয়েছিল, সেখানে এই ঘটনা উল্লেখ করা উচিত ছিল। তা করা হয়নি। এই ঘটনা প্রমাণ করছে সিদ্ধান্ত আসলে ‘ব্যাক ডেট’-এ করা হয়েছিল।
তৃণমূল সাংসদ বলেন, যদি কোনও রাজনৈতিক দলকেই শানপিড়ির মাঠে সভা করতে না দেওয়া হয়, তাহলে কোনও বক্তব্য নেই। কিন্তু ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্তের কথা উঠে এল তখনই যখন তৃণমূলের সভা করা নিয়ে কোর্টে মামলা ওঠে। ট্রাস্টি বোর্ডের তরফে সচিব পিয়াল অধিকারী সম্প্রতি যে সাংবাদিক সম্মেলন করেন, সেখানেও ৯ জুলাইয়ের প্রসঙ্গ উত্থাপন করা হয়নি। ট্রাস্টি বোর্ডের কর্তা সৌমেন অধিকারী ছেলে পিয়ালকে বাঁচাতে গিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন। এবং কোনও কারণ ছাড়াই কল্যাণকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন। এটা অনুচিত। কল্যাণ শুধু মনে করিয়ে দেন, বিজেপি সরকার চলে যাওয়ার পর তাঁর পুত্র কোথায় কোথায় যান, তা দেখার অপেক্ষায় তিনি রইলেন।
শ্রীরামপুরে (Serampore) ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা যাবে তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Trinamool Chairperson Mamata Banerjee) সভা। আইনি জটে ঝুলে রইল মামলা। সিঙ্গল বেঞ্চ থেকে ডিভিশন বেঞ্চ হয়ে মামলা ফিরল একক বেঞ্চে। মামলাটি ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ সেটি ফেরত পাঠিয়েছে সিঙ্গল বেঞ্চে। কর্মসূচির ভবিষ্যৎ ঝুলে থাকেব ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের (Justice Saugata Bhattacharyya) সিঙ্গল বেঞ্চ জিটি রোডে মিছিলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তবে, দুপুর ১টা থেকে ৩টে পর্যন্ত মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরের মাঠে সর্বোচ্চ দুই হাজার জমায়েতে সভার শর্তসাপেক্ষ অনুমতি দেয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই জমি দিতে আপত্তি জানায় জগন্নাথ মঠ কর্তৃপক্ষ। এই নির্দেশের পরই রাজ্য ও মন্দির কর্তৃপক্ষ ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়। তাদের আইনজীবীরা সওয়াল করেন, মাঠটি ব্যক্তিগত ধর্মীয় সম্পত্তি, মন্দির অনুমতি না দিলে প্রশাসন কীভাবে সভা করাবে। ফলে সভা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
















