মণিপুরে (manipur violence) হত্যা-সংঘর্ষ যেন থামতেই চাইছে না। তামেংলং জেলায় কুকি অধ্যুষিত দুই গ্রামে পৃথক হামলা। নাগা জঙ্গিদের হামলায় মৃত্যু হয়েছে ৪ গ্রামবাসীর। গুরুতর জখম হয়েছে এক শিশুও। 

আরও পড়ুন: নিজের জমি বেদখল, অভিযোগ জানাতে ‘বন্ধু প্রধানমন্ত্রী’ মোদির দ্বারস্থ মুম্বইয়ের বৃদ্ধ

রবিবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তোলেন এবং লংপি গ্রামে এই হামলা হয়। দু’টি ঘটনাতেই হামলাকারীরা ছিল সশস্ত্র এবং তাদের পরিচয় এখনও অজানা। তবে কুকি সংগঠনগুলির অভিযোগ, সশস্ত্র নাগা গোষ্ঠী এই হামলার পিছনে রয়েছে।  

রবিবার ভোরে তোলেন গ্রামে প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে। সশস্ত্র হামলাকারীরা একটি বাড়িতে ঢুকে এক যুবক তাঁর স্ত্রী ও তাঁদের ৬ বছরের ছেলেকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় দু’জনের। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন তাঁদের ৬ বছরের ছেলে। এই হামলার কয়েক ঘণ্টা পর দ্বিতীয় হামলা চলে লংপি গ্রামে। দুপুর ৩টে নাগাদ গ্রামের পথে ধরে বাড়ি ফরছিলেন ৩ জন। সেই সময় তাঁদের উপর হামলা চালায় সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা। গুলিতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু ২ জনের। তৃতীয় এক মহিলা নিখোঁজ। দুষ্কৃতীরা তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছে বলে অনুমান।

এই জোড়া হামলা ঘিরে কুকি সংগঠনগুলির অভিযোগ, এর পিছনে নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠী NSCN(IM) এবং ZUF-এর হাত রয়েছে। যদিও সেই অভিযোগের পক্ষে এখনও তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। তদন্তকারীরা হামলাকারীদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছেন। এই হামলার নিন্দায় সরব হয়েছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচন্দ সিং।

আরও পড়ুন: BRICS: পাকিস্তানকে কড়া বার্তা থেকে একাধিক দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক, ভারতের প্রাপ্তি তালিকা

১৩ সেপ্টেম্বর কুকি সম্প্রদায়ের কাছে ‘ব্ল্যাক ডে’। ১৯৯০-এর দশকের কুকি-নাগা সংঘর্ষে নিহতদের স্মরণে দিনটি পালন করা হয়। সেই দিনেই দুই কুকি-জো সম্প্রদায়ের বসতিতে হামলা এবং চারজনের মৃত্যু ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

২০২৩ সাল থেকে টানা তিন বছর ধরে মণিপুরে (manipur violence) মেইতেই-কুকি সংঘর্ষের জেরে অশান্ত পরিস্থিতি। তার মধ্যেই কুকি-নাগা এলাকায় নতুন করে এই রক্তপাত পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।