ব্রিকস ( BRICS) সম্মেলনের মঞ্চ থেকে সীমান্তে শান্তি এবং বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ( Narendra Modi)। সেখানে উপস্থিত ছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এরপর ব্রিকস আবহে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা ( LOC)  নিয়ে সুখবর এনে দিল কেন্দ্র। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ( Defence Ministry) ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে উত্তর সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন এলাকা থেকে অনেকটাই সেনা কমিয়েছে চিন ( China)। তবে, সীমান্তে নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি এবং সেনা মোতায়েন বজায় রেখেছে ভারত।

আরও পড়ুন: ক্যাম্পাসে বহিরাগত ‘দাপাদাপি’, হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা এবং তার সংলগ্ন প্রশিক্ষণ এলাকায় ভারতীয় সেনার ( Indian Army) ১০টি সম্মিলিত সামরিক ক্ষমতাসম্পন্ন ব্রিগেড মোতায়েন রয়েছে। একটি ব্রিগেডে সাধারণত প্রায় তিন হাজার সেনা ( Army) থাকেন। এই ব্রিগেডগুলিতে শুধু পদাতিক সেনাই নয়, ট্যাঙ্ক, আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো বিভিন্ন সামরিক শাখাকেও একই কাঠামোর মধ্যে রাখা হয়েছে। ফলে প্রয়োজন হলে এই বাহিনী স্বাধীন ভাবে সীমান্তে যে কোনও সামরিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সক্ষম। 

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির উপস্থিতি অনেকটাই কমেছে। তবে চিন সম্পূর্ণ ভাবে সামরিক কার্যকলাপ বন্ধ করেনি। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে এখনও ১০টি সম্মিলিত বাহিনীর ব্রিগেড রয়েছে এবং নিয়মিত টহলও চলছে। অর্থাৎ, আগের তুলনায় চিনের সেনা উপস্থিতি কমলেও সীমান্তে তাদের সামরিক পরিকাঠামো ও তৎপরতা পুরোপুরি শেষ হয়নি। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে চলা সামরিক ও কূটনৈতিক আলোচনার ফলেই সীমান্ত পরিস্থিতিতে এই পরিবর্তন এসেছে। দুই দেশের মধ্যে ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসালটেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশনের বৈঠক-সহ একাধিক স্তরে আলোচনা হয়েছে। পূর্ব লাদাখে কোর কমান্ডার স্তরেও বৈঠক হয়েছে। সেই আলোচনার পর ধাপে ধাপে সীমান্ত থেকে বাহিনী সরিয়েছে চিন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে সাত বছর পর ভারতে এসেছিলেন শি জিনপিং। ২০২০ সালের গলওয়ান সংঘর্ষের পর এটাই ছিল তাঁর প্রথম ভারত সফর। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন তিনি। রবিবার জিনপিং দেশে ফেরার পরের দিনই প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসে। ফলে সীমান্তে চিনা সেনার উপস্থিতি কমার বিষয়টি নয়াদিল্লি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।