টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে চলা দীর্ঘদিনের চাপানউতোরের পর এবার সবচেয়ে বড় এবং নাটকীয় মোড় এল তৃণমূল নেতা স্বরূপ বিশ্বাসের মামলায়। যে শ্লীলতাহানি এবং তোলাবাজির অভিযোগকে হাতিয়ার করে স্বরূপ বিশ্বাসের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, সেই অভিযোগই এবার পুরোপুরি খড়কুটোর মতো উড়ে গেল। অভিযোগকারী দুই নারীই শেষ পর্যন্ত তাঁদের মামলা তুলে নিয়েছেন এবং আদালতের সামনে স্বীকার করেছেন যে, এই গোটাটাই ছিল একটি সাজানো ও ‘মিথ্যে’ মামলা। আর এই ঘটনার পরেই টলিপাড়া থেকে রাজনৈতিক মহল—সর্বত্র একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে কি বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষের নোংরা রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার হতে হয়েছিল স্বরূপ বিশ্বাসকে? জেল-কাণ্ডের নেপথ্যে রুদ্রনীলের নাম জড়াতেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: কার প্রতিভাকে ভয় ছিল মহানায়কের? ‘চির-তরুণ’ বই প্রকাশে অকপট ঝিমলি
গত জুন মাসে স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির পর যারা ভেবেছিলেন তাঁর কেরিয়ার শেষ, তাঁদের মুখে কার্যত চুনকালি পড়ল। যে দুই মহিলা স্বরূপবাবুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন, তাঁরা নিজেরাই জানিয়েছেন যে সম্পূর্ণ ভুল বুঝিয়ে এবং ভয় দেখিয়ে তাঁদের দিয়ে এই মিথ্যে বয়ান দেওয়ানো হয়েছিল। দুজনেই অভিযোগ প্রত্যাহার করেছেন। স্বরূপ বিশ্বাস যে নির্দোষ, তা প্রমাণ হওয়া হয়তো এবার স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। এতদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহারের যে মিথ্যে তকমা তাঁর গায়ে লাগানোর চেষ্টা হয়েছিল, এই ঘটনায় প্রমাণিত হল যে তিনি আসলে চক্রান্তের শিকার। টলিপাড়ার টেকনিশিয়ান ও কর্মীদের পাশে যিনি সবসময় ছায়ার মতো দাঁড়িয়েছেন, তাঁকে এভাবে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা টেকনিশিয়ানরা ভালো চোখে দেখছেন না।
আরও পড়ুন: ‘বিগ বসে’ বিপাকে লাফটারসেন! স্ক্রিপ্ট কি আদৌ নিজের? ধন্দে নেটনাগরিকরা
স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার হতেই যিনি সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হয়েছিলেন এবং সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে বড়ো বড়ো বয়ান দিয়েছিলেন, তিনি হলেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ। স্বরূপবাবুকে ‘সিন্ডিকেট রাজের মাথা’ বলে আক্রমণ করতে ছাড়েননি তিনি। কিন্তু এখন যখন অভিযোগকারীরা নিজেরাই স্বীকার করছেন যে তাঁদের পিছন থেকে কেউ চালনা করছিল, তখন স্বাভাবিকভাবেই আঙুল উঠছে রুদ্রনীলের দিকে।
আরও পড়ুন: একা থাকার চ্যাপ্টার ক্লোজ! ছাদনাতলায় বসতে চলেছেন টলি ক্যুইন মিমি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নিজের রাজনৈতিক জমি শক্ত করতে এবং সস্তা প্রচারের আলোয় আসতে রুদ্রনীল ঘোষ বরাবরই এই ধরণের বিতর্ক তৈরি করতে ভালোবাসেন। স্বরূপ বিশ্বাসের মতো একজন জনপ্রিয় সংগঠককে টেনে নিচে নামাতে রুদ্রনীল কি তবে পিছন থেকে এই মহিলাদের ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন? নাকি স্বয়ং রুদ্রনীল অন্য কারও দ্বারা পরিচালিত হয়েছিলেন- এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে একজন মানুষের সম্মান নিয়ে এভাবে খেলা করা রুদ্রনীলের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বকেই স্পষ্ট করে দেয়।
আরও পড়ুন: ‘কিং স্টাইলে’ এন্ট্রি, মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে গৃহপ্রবেশের আগেই বিগ বসে জীতুর ধামাকা!
আইন আইনের পথেই চলবে। পুলিশ সূত্রে খবর, মিথ্যে মামলা দায়ের করে তদন্তকারী সংস্থাকে বিভ্রান্ত করার জন্য এবার অভিযোগকারীদের পাশাপাশি নেপথ্যের চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে এই গোটা ঘটনায় একটা বিষয় পরিষ্কার—ষড়যন্ত্র করে সাময়িক ক্ষতি করা গেলেও, শেষ পর্যন্ত সত্যেরই জয় হয়। আর রুদ্রনীল ঘোষের মতো যারা অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে রাজনীতি করতে যান, তাঁদের আসল রূপ সাধারণ মানুষের সামনে চলেই আসে। স্বরূপ বিশ্বাস এই অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আরও শক্তিশালী নেতা হিসেবে টলিপাড়ায় ফিরে আসবেন বলে বিশ্বাসী তাঁর অনুগামীরা।
















