সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় ক্রিয়েটরদের অন্যতম নিঃসন্দেহে লাফটারসেন ওরফে নিরঞ্জন মণ্ডল। তাঁর বলা কথা ভক্তরা মন্ত্র মুগ্ধের মতো শোনে। রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস বাংলা’র (Bigg Boss Bangla) অন্দরমহলে তিনি কী করছেন সবই দেখছেন অনুরাগীরা। আর সেখানেই প্রশ্ন উঠেছে সব কনটেন্টের স্ক্রিপ্ট কি আদৌ তাঁর নিজের লেখা? নাকি অন্য কারও মগজাস্ত্র ব্যবহার করে এতদিন স্রেফ অভিনয় করে এসেছেন তিনি?
আরও পড়ুন: বিতর্ক উড়িয়ে মাতৃত্বের স্বাদ! দেশের পরিকাঠামো নিয়ে সংশয় কাটিয়ে মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন সোহিনী
এতদিন ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের পর্দায় যাঁর বুদ্ধিদীপ্ত রসবোধ আর চমৎকার স্ক্রিপ্ট দেখে দর্শক হেসে খুন হতেন, বিগ বসের ঘরে তাঁর আচরণ দেখে এখন হতাশ অনুরাগীদের একাংশ। জল এতদূর গড়িয়েছে যে, নেটিজেনদের মনেও প্রশ্ন জেগেছে তাঁর সৃজনশীলতা নিয়ে।
বিগ বসের চব্বিশ ঘণ্টার ক্যামেরার সামনে প্রতিযোগীদের আসল ব্যক্তিত্ব ঢাকা দেওয়া কঠিন। শো-তে নিরঞ্জনের পারফরম্যান্স ও সাম্প্রতিক কিছু টাস্ক যেমন জন্মাষ্টমীর টাস্ক-এ তাঁর আচরণ দেখে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার সেই চটজলদি বুদ্ধি কিংবা রসবোধের ছিটেফোঁটাও বিগ বসের ঘরে নিরঞ্জনের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। উলটে অকারণ চিৎকার ও সস্তা মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে।
আরও পড়ুন: কুণালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রবীণ সিপিএম নেতার
লাফটারসেনের এই ‘আসল রূপ’ নিয়ে সমাজমাধ্যমে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেত্রী রূপালি রাই ভট্টাচার্য। তিনি নিরঞ্জনকে তীব্র কটাক্ষ করে ‘নন-ইন্টেলেকচুয়াল, ফেক ইডিয়ট’ বলে উল্লেখ করেন। নিজের ফেসবুক পোস্টে রূপালি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “একজন ইন্টেলেকচুয়াল মানুষ তো রিয়েলিটি শো-তে গিয়ে হঠাৎ গবেট হয়ে যেতে পারে না… এবার আমার খটকা লাগছে ওর স্ক্রিপ্টও কি নিজেই বানায়? নাকি কনসেপ্ট অন্য কারও, যেখানে ও শুধু অভিনয় করত?”
আরও পড়ুন: ধোঁয়া ওঠা চা-কফিতে নৈব নৈব চ! অক্সফোর্ডের গবেষণায় মিলল মারণ রোগের হদিশ
রূপালির এই বিস্ফোরক পোস্টের পর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছেন নেটনাগরিকরা। দর্শকদের একটা বড় অংশ অভিনেত্রীর সুরে সুর মিলিয়ে বলছেন, ডিজিটাল মিডিয়ার লাফটারসেন আর রিয়েলিটি শো-এর নিরঞ্জনের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। স্ক্রিপ্ট ছাড়া তিনি একেবারেই সাধারণ ও কন্টেন্ট তৈরি করার অযোগ্য।
যদিও তাঁর অন্ধ ভক্তরা এখনও পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের দাবি, বিগ বসের রুদ্ধদ্বার ও মানসিক চাপের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিরঞ্জনের কিছুটা সময় লাগছে। সোশ্যাল মিডিয়ার চেনা ছক থেকে বেরিয়ে টিভির পর্দায় এসে চরম ‘মিসিং’ লাফটারসেনের সেই চেনা ম্যাজিক। এখন দেখার, আগামী দিনে নিজের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এই স্ক্রিপ্ট চুরির সন্দেহ ঝেড়ে ফেলে ট্রোলের যোগ্য জবাব নিরঞ্জন দিতে পারেন কি না।
















