টলিউডের সোনালি যুগের অন্যতম স্তম্ভ, প্রখ্যাত অভিনেতা তরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়ের অজানা জীবনের গল্প শোনালেন তাঁর একমাত্র কন্যা ঝিমলি বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি তরুণ কুমারকে নিয়ে লেখা ‘চির-তরুণ’ বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসে বাবার জীবনের নানা ব্যক্তিগত ও আবেগঘন মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করেন তিনি। সিনেমা ও থিয়েটারের পর্দার আড়ালে কেমন ছিলেন মানুষ তরুণ কুমার, সেই অজানা অধ্যায়ই এবার উঠে এল তাঁর কন্যার স্মৃতিকথায়।

আরও পড়ুন: ‘বিগ বসে’ বিপাকে লাফটারসেন! স্ক্রিপ্ট কি আদৌ নিজের? ধন্দে নেটনাগরিকরা

ঝিমলি বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, চলচ্চিত্র জগতে তাঁর বাবা তরুণ কুমার সবার কাছে ‘বুড়ো’ নামে পরিচিত হলেও, পারিবারিক পরিমণ্ডলে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ ও স্নেহশীল একজন মানুষ। অন্যদিকে, আপামর বাঙালির কাছে যিনি মহানায়ক উত্তম কুমার, ঝিমলি বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তিনি ছিলেন তাঁর আদরের ‘জ্যাজান’। ভবানীপুরের যৌথ পরিবারে আর পাঁচটা সাধারণ গেরস্থ বাড়ির মতোই ছিল তাঁদের বেড়ে ওঠা। তারকা পরিবারের জাঁকজমক নয়, বরং একান্নবর্তী পরিবারের নিটোল ভালোবাসার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল তাঁদের আসল সুখ।

আরও পড়ুন: ট্রফি চর্চায় নতুন মোড়, এশিয়া কাপের ফাইনালে নকভির উপস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা

স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে ঝিমলি জানান, বাবা তরুণ কুমার তাঁকে ভালবেসে ছোটবেলায় ‘পুটে’ বলে ডাকতেন। নাতি সৌরভ বৃহস্পতিবার হয়েছিলেন বলে ‘জুপিটার’ বলে ডাকতেন। বরুণ কুমারের নাতি অনির্বাণকে ‘বিটুয়া’ বলে ডাকতেন। আর গৌরবকে ডাকতেন ‘চাটুজ্জেমশাই।’ শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারের ছোটদের জন্য সময় বের করে নিতেন অভিনেতা। পর্দায় যাঁর প্রাণখোলা অভিনয় দর্শকদের হাসাতো, বাস্তবেও তিনি ছিলেন ঠিক তেমনই এক পরোপকারী ও বিরাট মনের মানুষ।

ঝিমলি আরও বলেন যে, বাবার সঙ্গে মহানায়কের কোনও পাঠ পড়লে মহানায়ক ভীষণ সিরিয়াস হয়ে যেতেন। কখন যে বুড়ো কী বলবে, সেই নিয়ে ভয় পেতেন জ্যাজ্যান। বাবা অনেক সময় স্ক্রিপ্ট মুখস্থ না করেই সংলাপ বলে দিতেন। 

আরও পড়ুন: সীমান্তে কমছে চিনা সেনা ! দাবি কেন্দ্রের রিপোর্টে

অনুষ্ঠানে তিন নাতিও উপস্থিত ছিলেন। এই প্রথমবার তিন নাতিকে একসাথে পেয়ে যারপরনাই খুশি সবাই। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে গৌরব বলেন, “আমরা এমন একটা পরিবারে জন্মেছি যে পরিবারটা নিয়ে ভীষণ গর্ব করা যায়। বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে দাদুদের যা অবদান তার জন্য এমন সেলিব্রেশন তো অবশ্যই হওয়া উচিত। গৌরব বলেন, আমাদের তিনজনের মধ্যে ছোটবেলায় একমাত্র সৌরভই খুব চুপচাপ থাকত। বাকি আমরা দুই ভাই ভীষণ দুষ্টু ছিলাম। তার জন্য অনেক বকাও খেয়েছি, কিন্তু দুষ্টুমি ছাড়তে পারিনি।”

বাবার এই জন্মবার্ষিকীর আবহে ঝিমলি বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগেই প্রকাশিত হয়েছে এই বিশেষ বই, যা নতুন প্রজন্মের কাছে অভিনেতা তরুণ কুমারের বহুমুখী প্রতিভা ও যাপনকে আরও একবার নতুন করে চিনিয়ে দেবে।