ভেবেছিলেন আজই বোধহয় তৃণমূলের জোড়া ফুল প্রতীক পেয়ে যাবেন, কিন্তু সেই আশা পূর্ণ হল না 'বেইমান' শিবিরের। কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাইরে বেরিয়ে বৈঠকের প্রসঙ্গে যত না কথা বললেন তার থেকে বেশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করে সুর চড়াতে দেখা গেল রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Ritabrata Banerjee)। ফলে তিনি কি সত্যিই রাজ্যে বিরোধী দলনেতার ভূমিকা পালন করতে নেমেছেন নাকি তাঁর বিরোধিতা শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে, সে প্রশ্ন অমূলক নয়। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) জোড়া ফুলের প্রতীক কোন শিবিরের হাতে থাকবে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চার মাঝেই শনিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ডাকা বৈঠকে যোগ দিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। এক ঘণ্টা কুড়ি মিনিটের বৈঠক শেষে বাইরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাবি, তাঁরা পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা করেছেন। আরও কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে বিকল্প প্রতীক নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। 

নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতা করে আলাদা করে কয়েকজন বিধায়ককে নিয়ে নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করা আফরুজ্জামান- ঋতব্রত-সন্দীপন- চন্দ্রিমাদের কাছে কি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক থাকবে নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৈরি করা দলের জোড়া ফুল চিহ্ন থাকবে মমতা শিবিরেই তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার শেষ নেই। দুপক্ষই কমিশনের কাছে নিজেদের দাবির কথা জানিয়েছে। এরপর আজ এক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রথমে ঋতব্রতদের এবং তারপর মমতাপন্থী তৃণমূলকে বৈঠকের জন্য ডাকা হয়। তৃণমূলের প্রতীকের আসল মালিক কে সেই বিবাদ নিষ্পত্তি করতে কমিশনের যাবতীয় প্রশ্নের জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। শুধু তাই নয় উপনির্বাচনের কথা মাথায় রেখে বিকল্প প্রতিক নিয়ে কোনও আলোচনা হয়েছে কিনা সে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান এই বিষয়ে কোনও কথা হয়নি। 

এদিন ঋতব্রতর বক্তব্যের বেশিরভাগটা জুড়েই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করতে দেখা গেছে। তিনি বলেন "তৃণমূল কংগ্রেস কারোর পারিবারিক সম্পত্তি নয়। না খাতা না বহি, জো ডক্টর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কহে ওহি সহি' এরকম ভাবার কোন কারণ নেই। তৃণমূল কংগ্রেস কারোর বাপের দল নয় এটা তৃণমূলের স্তরের কর্মীদের দল। ' বিরোধী দলনেতা দাবি করেছেন উপযুক্ত তথ্য ও নথি দিয়ে তাঁরা কমিশনের কাছে বক্তব্য পেশ করেছেন এবং অনুরোধ করেছেন যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এদিন ঋতব্রত যখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তখন তাঁর পাশে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ রায় আখরুজ্জামানদের মতো এককালের মমতার পুরনো অনুগামীদের নিঃশব্দ উপস্থিতি এবং চোখ মুখের ভঙ্গিমা বুঝিয়ে দিয়েছে যে তাঁরা বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের সমর্থন প্রকাশ করছেন। ঋতব্রত শিবিরের কাছে লোকসভা সাংসদরা নেই, এড়িয়ে যায় বিদ্রোহী শিবির। ইতিমধ্যেই মমতা পন্থী তৃণমূলের সঙ্গে বৈঠক শুরু হয়েছে কমিশনের।