পরিবর্তনের বাংলায় থাকবে না বাঙালি- অবাঙালি বিভেদ, শনিবার গণেশ পুজোর (Ganesh Puja) উদ্বোধনে গিয়ে 'সনাতলী বাংলা' গড়ার ডাক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari)। এদিন সকালে প্রথমে বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির উদ্যোগে কেষ্টপুরে আয়োজিত গণপতি আরাধনার সূচনায় গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, আগে ভাষা, জাত, উৎসবের নামে বাঙালি সনাতনীদের বিভাজন করার চেষ্টা করা হয়েছে। অনেকে ভাবছেন গণেশ পূজো শুধু মহারাষ্ট্রের কিংবা দুর্গাপুজো শুধু কলকাতার। সেটা নয়, এইসব পুজো আসলে সারা দেশের সনাতনীদের। ছাব্বিশের নির্বাচনের পর রাজ্যে বিজেপি সরকার বাঙালি - গুজরাটি নিয়ে ভেদাভেদ তৈরি করা সংস্কৃতির প্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
এদিন কেষ্টপুরে পুজো উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী একযোগে বাম ও তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, 'বিগত বছরগুলিতে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য ভুলিয়ে দেবার চেষ্টা হয়েছিল। কমিউনিস্টরা ৩৪ বছর ধর্মকে আফিম বলেছেন। আর তৃণমূল সরকার (TMC Government) পরবর্তী ১৫ বছরে গ্রেটার বাংলাদেশ তৈরি করার চেষ্টা করেছে বাংলাকে। আমরা বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড তৈরি করা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও প্রণবানন্দের ঐতিহ্য সংস্কৃতি পরম্পরা ফিরিয়ে আনতে চাই।' দুর্গা পুজোকে শারদোৎসব বলার বিরোধিতা করে ফের একবার কমিউনিস্টদের পুজো প্যান্ডেল সংলগ্ন স্টলগুলির কথা তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, 'এইসব জায়গায় স্বামী বিবেকানন্দের বাণী কিংবা রামকৃষ্ণ মঠ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘের কোনও বই পাওয়া যায় না। এনারা লেনিন মাওসেতুং এর মতো বিদেশীদের বই প্রচার করে। পঞ্জিকা, শাস্ত্র, পুরোহিত, মন্ত্র উচ্চারণ, সাহিত্যিক সংস্কৃতিকে ভুলিয়ে দিয়ে লাল রাজত্বে দুর্গাপুজো লেখা হতো না। এরা মহালয়া শুনবে না, মন্ডপে মাকে আরতি করবে না, প্যান্ডেল থেকে দূরে লাল শালু লাগিয়ে বসবে। এদের স্টলে দ্বিজাতি তত্ত্বে ভারত ভাগের বই পাবেন না, হনুমান চালিশা পাবেন না। কাল মার্কস আর লেনিনের বই পাওয়া যায়।' বাংলায় বিজেপি সরকার এইসব যে বরদাস্ত করবে না তাও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্য প্রশাসনিক প্রদান।
বিগত ১৫ বছরের শেষের দিকে বাংলায় জামাতীকরণের চেষ্টা হয়েছে বলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও (Mamata Banerjee) নিশানা করেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ করেন, কয়েক বছর আগে মহরমের দিন বিজয়া দশমী হওয়ায় প্রতিমা নিরঞ্জন না করা সংক্রান্ত মমতার সিদ্ধান্তের কথাও। এদিন প্রথমে কেষ্টপুর এবং তারপর দমদমে গণেশ পুজোর উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিজের নাম, পরিচয়, ধর্ম, সংস্কার, পরম্পরা যাতে কেউ বদলে দিতে না পারে সেই জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। সনাতনী সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনাই লক্ষ্য হতে হবে। আজ একাধিক পূজা উদ্বোধনের পর বিকেলে দিল্লি যাবেন শুভেন্দু। ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসা চিনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নৈশভোজের কথাও রয়েছে তাঁর।
















