গ্রেফতার মাওবাদী নেতা অসীম মণ্ডল ওরফে ‘আকাশ’-কে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিল আদালত। কলকাতা পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্সের (STF) হাতে গ্রেফতার (Arrest) হওয়ার পর শুক্রবার তাঁকে কলকাতা নগর দায়রা আদালতে হাজির করা হয়। আকাশের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। 

আরও পড়ুন: শিশুখাদ্যে গরমিল, Nestle–কে নোটিশ কেন্দ্রের

কলকাতা পুলিশের এসটিএফ-এর আইনজীবীর দাবি, নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী)-র (Maoist) সক্রিয় সদস্য অসীম। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বেআইনি ও নাশকতামূলক কার্যকলাপের সঙ্গে তাঁর যোগ রয়েছে বলেও আদালতে দাবি করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন জানিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের আবেদন করা হয়। সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত।

পুলিশ সূত্রে খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার হাতিশালা এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার ভোরে অসীম মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে ধরতে বেশ কিছুদিন ধরেই সক্রিয় ছিল কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) বিশেষ টাস্ক ফোর্স। সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে ‘বেলা’-কে জিজ্ঞাসাবাদ করেই অসীম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় বলে তদন্তকারীদের দাবি। আদালতে সরকারি আইনজীবী আরও জানান, অসীমের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা মিলিয়ে মোট ৩৩টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই তিন রাজ্যের সীমান্তবর্তী জঙ্গল এলাকায় আত্মগোপন করে থাকার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁকে ধরিয়ে দিতে ঝাড়খণ্ড সরকার এক কোটি টাকা এবং ওড়িশা সরকার ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

অসীম মণ্ডলের (Ashim Mondal) বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক নাম ব্যবহার করে আত্মগোপনে থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে মাওবাদী সংগঠনের অন্দরে তিনি ‘আকাশ’ নামেই পরিচিত ছিলেন। আশির দশকে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণার ফুলচক গ্রাম থেকে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে অতিবাম রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ। পরবর্তী সময়ে সিপিআই (মাওবাদী)-র রাজ্য নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান তিনি। ২০১১ সালে মাওবাদী নেতা কিষেণজির মৃত্যুর পর পশ্চিমবঙ্গে সংগঠনকে ধরে রাখার ক্ষেত্রে অসীম মণ্ডলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার সীমান্তবর্তী জঙ্গল এলাকায় আত্মগোপন করে থাকার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশি তৎপরতা বাড়ার পাশাপাশি একের পর এক সহযোগী গ্রেফতার হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর গতিবিধি আরও সীমিত হয়ে পড়েছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

এ দিন আদালতে অসীমের হয়ে কোনও জামিনের আবেদন করা হয়নি। তাঁর আইনজীবী ইয়াসিন রহমান অবশ্য পুলিশের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, “কয়েক দশক ধরে অসীমের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ আনা হলেও ২০১১ সালের আগে মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এমন অনেকেই বর্তমানে মূলস্রোতের রাজনীতিতে রয়েছেন। এখন আসামী করে আনা হচ্ছে আকাশদের।” এরপরেই ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাও নেতাকে পুলিশি হেফাজতে থাকার নির্দেশ দেয় আদালত।