গন্তব্যে পৌঁছতে গুগল ম্যাপের (Google Map) উপরেই ভরসা করেছিলেন যুবক। কিন্তু সেই পথই শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিয়ে গেল ঘোরতর বিপদের মুখে। অন্ধকারে ধসে যাওয়া রাস্তা বুঝতে না পেরে বাইক-সহ গভীর খাদে পড়ে গুরুতর জখম হলেন পশ্চিম বর্ধমানের (Paschim Bardhaman) কাঁকসার বাসিন্দা প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (Prasun Bandyopadhyay)। দুর্ঘটনার পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানাতে পারেননি প্রসূন। ফলে রাতভর তাঁর খোঁজ চলে। শেষ পর্যন্ত মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ধরে শনিবার সকালে পাণ্ডবেশ্বরের (Pandaveswar) হরিপুরের পুরনো ভাটমুড়া এলাকা থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন: পাঞ্জাব যাওয়ার পথে NJP-তে ধৃত ৪, অনুপ্রবেশের সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রসূন পেশায় কেবল অপারেটর। কাজের সূত্রে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। এলাকার রাস্তা ভাল ভাবে চেনা ছিল না তাঁর। তাই পথ চিনতে গুগল ম্যাপের সাহায্য নিচ্ছিলেন প্রসূন। সেই নির্দেশ মেনেই কয়েক কিলোমিটার এগোনোর পর আচমকা দুর্ঘটনা ঘটে। বাইক-সহ রাস্তার ধস নামা অংশের খাদে পড়ে যান যুবক।

দুর্ঘটনার পর কোনও ভাবে আত্মীয়দের ফোন করেন প্রসূন। কিন্তু তখন তাঁর কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল। কোথায় রয়েছেন, সেটাও ঠিক করে বলতে পারছিলেন না। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি পুলিশকে জানালে শুরু হয় তল্লাশি। রাতভর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ চালিয়েও তাঁর সন্ধান মেলেনা। পরে মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করা হয়। শনিবার সকালে পুলিশ এবং খনি কর্তৃপক্ষের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন: কলকাতা থেকে জেলায় ছুটবে ‘নমো ভারত’! RRTS-এর প্রস্তাব শমীকের

যে জায়গায় প্রসূনের দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটি ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ECL)-এর অধিগৃহীত এলাকা। স্থানীয়দের দাবি, কিছু দিন আগেই সেখানে ধস নেমে রাস্তার একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে ওই রাস্তা বন্ধ রাখা হয়েছে এবং এলাকায় কয়লা উত্তোলনের কাজও শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, রাস্তা বন্ধ থাকার বিষয়টি যথেষ্ট স্পষ্ট ভাবে প্রচার করা হয়নি। ফলে বাইরের কেউ গুগ্‌ল ম্যাপের নির্দেশ অনুসরণ করে সেখানে গেলে বিপদের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

উদ্ধারের সময় প্রসূনের অবস্থা যথেষ্ট আশঙ্কাজনক ছিল বলেই জানিয়েছে পুলিশ। আঘাতের কারণে তিনি কার্যত কথা বলার অবস্থায় ছিলেন না। এমনকি কী ভাবে দুর্ঘটনা ঘটল বা কোন পথ ধরে সেখানে পৌঁছলেন, তা-ও স্পষ্ট করে জানাতে পারেননি প্রসূন। এক পুলিশকর্মীর কথায়, ‘‘উনি ট্রমার মধ্যে ছিলেন। ঠিকানা জানতে চাইলে অসংলগ্ন ভাবে বিভিন্ন জায়গার নাম বলছিলেন। পরে মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ধরে খোঁজ চালিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়।’’

উদ্ধারের পর প্রসূনকে চিকিৎসার জন্য দুর্গাপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আপাতত সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁর সঙ্গে কথা বলা হবে। তখনই দুর্ঘটনার গোটা বিষয়টা স্পষ্ট হবে।