উপনির্বাচনের আগে বিজেপি এত ভয় পাচ্ছে কেন? যদি জয়ের ব্যাপারে তারা আত্মবিশ্বাসী হবে তাহলে কখনও ভয় দেখিয়ে কখনও পুলিশকে কাজে লাগিয়ে বিরোধী প্রার্থীদের কিংবা তাঁদের পরিবারকে আক্রমণ করা হচ্ছে কেন? শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এভাবেই রাজ্যের শাসকদলকে নিশানা করলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। পাশাপাশি বিজেপির হয়ে কাজ করার জন্য 'গদ্দার' ঋত শিবিরকেও তুলোধোনা করলেন এই দিন।

বেলেঘাটার বিধায়ক বলেন, পুলিশ এবং গুন্ডাবাহিনীকে যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে তারপর শাসকদলের মুখে নেতাদের মুখে আর 'রেকর্ড ভোটে জিতব','জামানত জব্দ হবে বিরোধীদের' এই সমস্ত কথা শোভা পায় না। কাউকে জামানত জব্দ করতে গেলে তো প্রার্থীকে ভোটে লড়তে হবে অথচ বিজেপি সেই লড়াইকে ভয় পাচ্ছে। কুণাল বলেন, কোন প্রার্থী লড়াই করবে আর কোন প্রার্থী লড়বেন না তাদের অনুমতি নিয়ে ঠিক করতে হবে? আসলে এটাই প্রমাণ করে যে বিজেপি জানে তাদের মূল প্রতিপক্ষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনতা নেত্রীর পাশে রয়েছেন। রাজ্যের আসল বিরোধী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর তৃণমূল কংগ্রেস এবং তার সৈনিকরা। তাঁদের ভয় পায় বিজেপি।সেই কারণে তাঁরা যাতে ভোটে প্রার্থী হতে না পারেন এই আশঙ্কা থেকে নানা ধরনের কাণ্ডকারখানা করা হয়েছে। 

নন্দীগ্রামে মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করেছে। তারপরই মিলন প্রধানকে (Milan Pradhan) গ্রেফতার করা হয়েছে। রেজিনগরের বাড়ি বাড়ি পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। এগুলো প্রমাণ করে দেয় যে বিজেপি ভয় পেয়েছে। কংগ্রেস প্রার্থী মিলনের সঙ্গে যেটা হয়েছে আরও একবার তার তীব্র বিরোধিতা ও নিন্দা করে কুণাল বলেন, সিপিএমের করা মামলা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাউকে বিরক্ত করেননি তাহলে বিজেপি সেই মামলা নিয়ে উপনির্বাচনের ঠিক আগে কংগ্রেস প্রার্থীকে অ্যারেস্ট করছে, রাতে তুলে নিয়ে যাচ্ছে, খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না এটা স্বৈরাতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী রাজনীতি সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। কুণাল (Kunal Ghosh) এদিন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্টের প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে জানান, 'বিরোধী দলনেতা বলছেন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ করেছি, অথচ বিরোধিতা হওয়া উচিত সরকারের বিরুদ্ধে। বিরোধী প্রার্থীকে ধরিয়ে দিতে ব্রিটিশ আমলে এরকম দালাল ঘুরে বেড়াতো। এই পোস্ট সেই আচরণের পরিচয় দিচ্ছে। বেলেঘাটা তৃণমূল বিধায়ক এদিন খুব স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, যে প্রতীক ফ্রিজ নিয়ে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) যে অবৈধ অনৈতিক অন্তবর্তীকালীন রায় দিয়েছে সেটা সাময়িক বিষয়। আসল লড়াই করার জন্য মানুষের সমর্থন রয়েছে মমতার সঙ্গে এবং বৃহত্তর লড়াই চলবে।