শিলিগুড়ির (Siliguri) হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন সিটঙের হোমস্টেতে (Sittong Homestay) অগ্নিদগ্ধ নিকিতা সাহা (Nikita Saha)। শুক্রবার পর্যন্ত সামান্য কথা বলতে পারছিলেন তিনি। শনিবার সেই ক্ষমতাও অনেকটাই কমে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন নিকিতার স্বামী সৌভিক দাস। চিকিৎসকেরা তাঁকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। নিকিতার শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
আরও পড়ুন: হাসপাতাল চত্বরেই মেয়াদ-উত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি! ক্ষোভে দোকান বন্ধ করলেন রোগীর পরিজনেরা
ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন সিটঙের ওই হোমস্টের মালিক নেহাল আজরান, অংশীদার পবনকুমার আগরওয়াল এবং দুই কর্মী দীপেন লামা ও নাসির উদ্দিন। নাসিরের বাড়ি উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায়। বাকি তিন জন কার্শিয়াঙের বাসিন্দা। কার্শিয়াঙের অ্যাডিশনাল এসপি অনিন্দ্যসুন্দর ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর থেকেই হোমস্টে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিকিতার স্বামী সৌভিক। তাঁর অভিযোগ, আগুনে ঝলসে যাওয়ার পর দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছনোর জন্য হোমস্টের তরফে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা করা হয়নি। এমনকি গাড়ির জন্য অনুরোধ করার পরেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। সৌভিকের বয়ান অনুযায়ী, বার্বিকিউয়ের সামনে বসেছিলেন তিনি ও নিকিতা। আচমকাই আগুনের তীব্রতা বেড়ে যায়। তাঁর অভিযোগ, এক কর্মী আগুন বাড়ানোর জন্য বার্বিকিউতে তারপিন তেল ঢেলে দেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের শিখা নিকিতার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তিনিও সেই আগুনে ঝলসে যান।
আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামের ধৃত কংগ্রেস প্রার্থীর ১৪ দিনের জেল হেফাজত! উপনির্বাচনের আগেই কেন পদক্ষেপ? উত্তর মিলল
এর পরেই স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করতে হোমস্টে কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার অনুরোধ করেন সৌভিক। তাঁর দাবি, প্রায় আধঘণ্টা পর একটি গাড়ি পাওয়া যায়। সেই গাড়িতে নিকিতাকে নিয়ে তিনি নিজেই শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছন। অভিযোগ, সেই সময় হোমস্টের কেউ তাঁদের সঙ্গে হাসপাতালে যাননি। হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই নিকিতার গলার স্বরও ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে এসেছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিকিতার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার। সৌভিক বলেন, ‘‘শুক্রবার যে ভাবে অল্প একটু কথা বলছিল, আজ সেটাও অনেক কমে গিয়েছে। চিকিৎসকেরা বলেছেন, সময় লাগবে।’’ শনিবার চিকিৎসকদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি না হলে আপাতত তাঁকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা সম্ভব নয়। সৌভিকের কথায়, ‘‘সময় লাগুক, কিন্তু ও সুস্থ হয়ে উঠুক। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই।’’
যদিও সৌভিকের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে হোমস্টে কর্তৃপক্ষ। মালিক নেহালের দাবি, ঘটনার সময় সিসিটিভি ফুটেজে যে তৃতীয় ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে, তিনি হোমস্টের কর্মী নন। তাঁর বক্তব্য, বার্বিকিউয়ের আগুনের খুব কাছে বসে থাকা নিয়ে দম্পতিকে একাধিক বার সতর্ক করা হয়েছিল।
হোমস্টে মালিকের দাবি, রাতের খাবারের অর্ডার দেওয়ার পর তাঁদের কর্মী খাবারের ব্যবস্থা করতে ভিতরে চলে যান। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই দম্পতি বাইরে থাকা এক ব্যক্তিকে ডেকে আনেন। তাঁদের দাবি, ঠান্ডা লাগছে জানিয়ে ওই ব্যক্তিকে আগুন বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। এমনকি আগুনে কেরোসিন ঢালা হয়েছিল বলেও দাবি কর্তৃপক্ষের।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ঘিরেও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, বার্বিকিউয়ের সামনে পাশাপাশি বসে রয়েছেন নিকিতা ও সৌভিক। তাঁদের উল্টো দিকে থাকা এক ব্যক্তি একটি ড্রাম কাত করে আগুনের মধ্যে তরল জাতীয় কিছু ঢালার চেষ্টা করছেন। ঠিক তার পরেই আচমকা আগুনের শিখা অনেকটা বেড়ে যায় এবং নিকিতার শরীরে আগুন ধরে যায়।
হোমস্টে কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করেছে, ঘটনার সময় নিকিতা নাইলনের পোশাক পরে ছিলেন। সেই কারণেও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে তাদের বক্তব্য। তবে আগুন কী ভাবে এতটা বেড়ে গেল, নিরাপত্তার ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না এবং দুর্ঘটনার পর আহতদের হাসপাতালে পৌঁছতে কেন এতটা সময় লাগল, এই সব প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছে পুলিশ। তদন্তে ধৃত চার জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
















